বাংলা সিনেমার অ্যাকশন থ্রিলার ধারায় নতুন দিগন্তের সন্ধান করছে ‘দ্য একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’, যা পরিচালনা করেছেন জয়ব্রত দাস। ২১ নভেম্বর মুক্তির পর থেকেই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এটি যেন একটি নতুন উড়ান, যেখানে রয়েছে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর প্রভাব, পাল্প ফিকশন এর আদলের ধরণ, অদ্ভুত চরিত্রের সমাহার এবং ডার্ক হিউমরের অসাধারণ মিশ্রণ। এই উচ্চ-তীব্রতার চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণরূপে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের অ্যাড্রেনালিন বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রদান করে যা এককথায় বলা যেতে পারে মারাত্মক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
কলকাতার ঐতিহাসিক একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের নামানুসারে নির্মিত সিনেমাটি, এর পটভূমিতেই গল্পের আবহ সূচনা করে। ছবির নাম শুধুমাত্র একটি স্থান নির্দেশ করে না, বরং এটি শিল্প, সৃজনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক গুরুত্বের এক প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই সিনেমায় যুব নির্মাতারা চরিত্রগুলোর দক্ষতা এবং সৃজনশীলতাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে প্রতিটি চরিত্র নিজেদের বিশেষ কৌশলে ‘শিল্পী’ বা অপরাধের নৈপুণ্যে আবির্ভূত হয়েছে।
সৌরভ দাস, রুদ্রনীল ঘোষ, ঋশভ বসু, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি, পায়েল সরকার সহ একদল প্রভাশালী অভিনেতা পর্দায় উপস্থিত হয়েছেন অসাধারণ কৃতিত্ব নিয়ে। তাদের অভিনয় শুধু শব্দের মাধ্যমে নয়, বরং চোখ এবং শরীরে অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে; কেউ কেউ ডার্ক হিউমার ও নির্মমতার সংমিশ্রণে একটি নতুন বাংলা ‘অ্যান্টি-হিরোয়’ জীবনদান করেছেন। ছবির সঙ্গীত, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সাউন্ড ডিজাইন এবং প্রাণবন্ত এডিটিং, ক্লাইম্যাক্সে অ্যানিমে শৈলীতে প্রদর্শনীগুলি মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এক উজ্জ্বল পাল্প-থ্রিলার, যা দর্শকদের মনোমুগ্ধ করেছে।
বাংলার সিনেমা যে কেবল ঘুরছে না, বরং উড়ছে, তার শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ‘দ্য একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’—স্বাধীন সৃষ্টিশীল তরুণদের নির্মিত একটি নতুন ধারার থ্রিলার। সিনেমা প্রেমিদের জন্য এটি অবশ্যই হলে গিয়ে দেখা অপরিহার্য।