বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস (৩ ডিসেম্বর) উদ্যাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ভবনের মঞ্চে দৃষ্টিহীন দাবা কোচ যুধাজিৎ দে-কে সম্মান প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উত্তরপাড়ার এই তরুণের জীবন অন্ধকারে হলেও তাঁর অর্জনের দীপ্তি আজ সমগ্র জাতিকে গর্বিত করছে।
ছোটবেলা থেকেই যুধাজিতের দাবার প্রতি এক গভীর প্রেম ছিল। তাঁর দাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল মায়ের হাত ধরে। রূপা দে, যিনি তাঁর মা, প্রথমবারের মতো সাদাকালোর বোর্ডে কৌশলগত লড়াইয়ের মন্ত্রে তাঁকে পরিচিত করেন। ওই শেখা এবং প্রতিনিয়ত অনুশীলনই তাঁকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে বহু পুরস্কার অর্জনের সুযোগ দিয়েছে। উল্লেখ্য, দাবার পাশাপাশি তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেও পাঁচবার জাতীয় স্বর্ণপদক জিতেছেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।
দৃষ্টিশক্তি নেই তাও তিনি দৃষ্টিসম্পন্ন দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন, যা তাঁকে কোচ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে দিল্লিতে রয়েছেন, কিন্তু ৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজ তাঁর উত্তরপাড়ায় ফিরে আসার কথা। ইতিমধ্যে, পুরপ্রধান দিলীপ যাদব তাঁর প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শহরে ফিরে এলে তাঁকে বিশেষ এক সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
অভিনন্দন পাওয়ার পর যুধাজিৎ বলেন, “জীবনে কিছু করার প্রকৃত ইচ্ছা থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই আপনার পথে বাধা তৈরি করতে পারে না। আমার জেদের পাশাপাশি পরিশ্রমই আমাকে এখানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।” তাঁর এই উদাহরণ অসংখ্য মানুষের জীবনে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করছে।