মহাজাতি সদনে ‘সংস্কৃতির সৈনিক’—শিক্ষক সম্মাননায় ঐতিহ্য ও কৃতজ্ঞতার মিলন

গতকাল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মহাজাতি সদনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—‘সংস্কৃতির সৈনিক’। ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন সাংস্কৃতিক পরীক্ষা বোর্ড সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ (SSSP)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান ছিল সংস্কৃতির নীরব সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।
গত অর্ধদশক ধরে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ কেবলমাত্র একটি সাংস্কৃতিক পরীক্ষা বোর্ড হিসেবেই নয়, বরং কর্মশালা, শিল্প প্রদর্শনী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঋতুভিত্তিক নানা আয়োজনের মাধ্যমে নবীন প্রতিভাদের লালন ও বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এই ধারাবাহিকতায় ‘সংস্কৃতির সৈনিক’ ছিল এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যেখানে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দশ বছর বা তার কম সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলা শিক্ষক – শিক্ষিকা ও তাদের সহ শিক্ষক – শিক্ষিকাদের সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিজগতের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন শ্রী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, অধ্যাপক অমিতা দত্ত (সহ-সভাপতি, SSSP), বিদুষী মীতা নাগ—প্রখ্যাত সেতার শিল্পী ও সর্বভারতীয়-এর সভাপতি পণ্ডিত মনিলাল নাগের কন্যা, বিশিষ্ট গৌড়িয়া নৃত্যশিল্পী ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট অভিনেত্রী মীতা চট্টোপাধ্যায়, সোমনাথ কুট্টি— সর্বভারতীয় – এর রেক্টর ও প্রখ্যাত ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী গুরু ড. থাঙ্কুমণি কুট্টির পুত্র, প্রমুখ।


অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক মনোমুগ্ধকর সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে। এরপর সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্ত তাঁর হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে অতিথি ও সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। পর্যায়ক্রমে বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং তাঁদের হাত দিয়েই শিক্ষকদের সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
দু’টি পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানটি দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। সুসংগঠিত পরিকল্পনা, গুণীজনের উপস্থিতি এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
সব মিলিয়ে ‘সংস্কৃতির সৈনিক’ অনুষ্ঠানটি ছিল ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক শিক্ষকদের প্রতি এক আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন—যা নিঃসন্দেহে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *