৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রুপোর দামের এই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রুপোর দাম প্রতি কেজি ২.৫০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
MCX রূপার দাম (৬ জানুয়ারি ২০২৬)
সিলভার মার্চ ২০২৬ ফিউচার ₹ ২,৫৮,৮৩৮
আজকের সর্বোচ্চ মূল্য ₹ ২,৫৯,৩২২
আজকের সর্বনিম্ন মূল্য ₹ ২,৪৬,৮৮৮
রুপোর দাম বাড়ার প্রধান কারণগুলো নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
১. চিনের রফতানি নিষেধাজ্ঞা (China Export Restrictions)
রুপোর দাম বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো চিন। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চিন রুপো রফতানির ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চিন বিশ্বের অন্যতম বড় রুপো উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে রুপোর জোগানে টান পড়েছে, যার ফলে দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
২. শিল্পক্ষেত্রে বিপুল চাহিদা (Industrial Demand)
বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে রুপোর ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে:
সোলার প্যানেল: পরিবেশবান্ধব শক্তির জন্য সোলার প্যানেলের চাহিদা বাড়ছে, যেখানে প্রচুর রুপো লাগে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV): ইভি এবং এআই (AI) প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরিতে রুপো একটি অপরিহার্য ধাতু।
সলিড-স্টেট ব্যাটারি: স্যামসাংয়ের মতো বড় সংস্থাগুলোর নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে রুপোর ব্যবহার এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (Geopolitical Tensions)
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা (যেমন আমেরিকা-ভেনিজুয়েলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা) বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলছে। যখনই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, মানুষ টাকা সুরক্ষিত রাখতে সোনা ও রুপোর মতো ধাতুতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেয়।
৪. জোগান ও চাহিদার পার্থক্য (Supply Deficit)
গত ৫ বছর ধরে বিশ্ববাজারে রুপোর চাহিদা যতটা, জোগান ততটা নেই। খনি থেকে উত্তোলনের তুলনায় ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই ‘সাপ্লাই ঘাটতি’ রুপোর দামকে রেকর্ড স্তরে নিয়ে গেছে।
৫. মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার
আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা রুপোর দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এছাড়া ভারতীয় মুদ্রার (টাকা) মানের কিছুটা অবনতিও দেশীয় বাজারে রুপোর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।