শ্রুতিমঞ্জরীর মঞ্চে আবৃত্তির উৎসব

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, অনুষ্ঠান হল রথীন্দ্র মঞ্চে। মুম্বাই ও কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত শ্রুতিমঞ্জরীর বার্ষিক অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক ছাত্রছাত্রী সম্মিলিত আবৃত্তি “অন্তরমম বিকশিত করো”… পরিবেশনায় এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা । সে দিনের শিক্ষার্থী শিল্পীদের বৈচিত্রপূর্ণ প্রতিটি অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
চার থেকে চুরাশি সকলেই মঞ্চে সাবলীল। প্রতিটি উপস্থাপনাতেই ছিল চমকের পর চমক।
অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট্য কবি শ্রী চন্দন নাথ, বিশিষ্ট্য তবলা বাদক পন্ডিত শঙ্কর রক্ষিত, সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ডঃ শান্তনু সেনগুপ্ত, বিশিষ্ট্য শিক্ষাবিদ ডঃ সঞ্জিত ভট্টাচার্য্য।
অনুষ্ঠান শুরু হল “ভালো আছি ভালো থেকো” কবিতা কোলাজের মাধ্যমে। ৩.৫ বছরের শিশুদের দেখা গেল মঞ্চে – অবলীলায় আবৃত্তি করে গেল। সঞ্চালিকা ডোনা জানা শ্রোতাদের জানালেন এরা সকলেই শুধু মাত্র অনলাইন এ ক্লাস এবং রিহার্সাল করে আজ প্রথমবার মঞ্চে। বিশিষ্ট অতিথিদের ও সকলের মত একই প্রশ্ন ছিল “যে এরা সকলে কোরাস শিখল কী ভাবে?” শিশুদের কবিতা কোলাজ ছিল তাঁদের প্রিয় কবি চন্দন নাথের কবিতা সঙ্কলন। রিশান, আদিদেব, দেবপ্রিয়ান,শ্রেয়াংশ, সমন্ত্রিকা র উপস্থাপনা প্রশংসনীয়।


নিজেদের জীবন যাত্রা পথে চড়াই উৎরাই সেটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নদী কবিতা পরিবেশনের মাধ্যমে পরিবেশন করল শ্রুতিমঞ্জরীর ৬ থেকে ১১ বছরের শিশু শিল্পীরা। পাপাঙ্গুল, তাই তো লাগে ভালই লাগে কলকাতাকে, পরের উপকার করিও না, হিংসুটি এই সব কিছু নিয়ে সেজে উঠেছিল সেদিনের মঞ্চ। শুধু ছেলেমেয়েরাই নয়, সেই সাথে তাদের মায়েরাও মঞ্চে একসাথে গলা মিলিয়েছিলেন – ওরে বিহঙ্গ কবিতা কোলাজে।
এরপর ছিল বার্ষিক পরীক্ষার অঙ্কন এবং আবৃত্তির শংসাপত্র এবং প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারিদের মেডেল পাওয়া এবং বার্ষিক অনলাইন আবৃত্তি কম্পিটিশনে জয়ীদের পুরস্কার বিতরণ।গোল্ডেন মাইক ২০২৫-২৬ বিভিন্ন গ্রুপ মিলিয়ে ৩১ জন পুরস্কৃত হন।
পড়াশুনা, সাথে শিল্পকলা সবদিক বিবেচনা করে ডঃ নবনীতা চক্রবর্তী এবং প্রজ্ঞাশ্রী চক্রবর্তী কর্তৃক প্রদত্ত এবারের ভাস্কর জ্যোতি চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় অরিত্র কুমার ভুঁইয়া র হাতে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মঞ্চে শ্রীমতি মল্লিকা রায়ের লেখা “চতুরঙ্গ”নামক একটি বই উন্মোচন করা হয়।
সুকান্ত ভট্টাচার্য্য এবং সলীল চৌধুরী শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শ্রুতিমঞ্জরীর এই বছরের কবিতাস্কেপ ছিল – অবাক পৃথিবী। বিশিষ্ট চিত্রকর শ্রী সুশান্ত সরকার , বিশিষ্ট কত্থক নৃত্যশিল্পী অঙ্গনা জোয়ারদার ছিলেন এবারের কবিতাস্কেপে। অবাক পৃথিবী শুরু হয়ায়ার আগে সঙ্গীত শিল্পী শ্রীমতি সৌমী বন্দ্যোপাধ্যায় শারীরিক কারণে আসতে না পারায় শ্রুতিমঞ্জরীর কর্ণধার সেদিন জানান যে মঞ্চে এইবারের কবিতাস্কেপে তারা মিউজিক ট্র্যাকের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ যত দুর্যোগ ই আসুক না কেন “শো মাস্ট গো অন” । অবাক পৃথিবী কবিতাস্কেপে সুদেষ্ণা, মঞ্জুষা, স্নেহা, নিষ্ঠা, চন্দ্রানীর পরিবেশনার পাশাপাশি দেবস্মিতার পরিবেশনা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানের শেষে শ্রুতিমঞ্জরীর শিল্পী এবং অতিথি শিল্পীদের হাতে মেমেন্টো তুলে দেন মঞ্জরী নিজে।
একটা কথা বলতেই হয় যে অনুষ্ঠান শুরু হওয়া পর্যন্ত সমস্ত ঝড় ঝঞ্ঝা কাটিয়ে সেদিন কলকাতার বুকে শ্রুতিমঞ্জরীর সদস্যরা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে সেদিন মঞ্চে সকলের মন জয় করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *