রেকর্ডের শিখরে সোনা: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্য যুদ্ধের আবহে আউন্স প্রতি $৪৮০০ এবং ভারতে ₹১.৫ লাখ ছাড়াল দর”

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোনার দাম আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বাজারে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৪,৮০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫০,০০০ টাকা অতিক্রম করেছে।
এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা
২০২৬-এর শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক (Tariff) আরোপের হুমকি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সসহ ৮টি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে একটি বড়সড় বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ছাড়াও আরও কিছু আন্তর্জাতিক সমস্যা দাম বাড়াতে সাহায্য করছে:

ইরান ও ভেনিজুয়েলা সংকট: ইরানের সাথে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ভেনিজুয়েলার অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven): যখনই বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধ বা অশান্তির ছায়া পড়ে, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে সোনায় বিনিয়োগ করেন, যা দাম বাড়িয়ে দেয়।

৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (যেমন- চীন, ভারত, পোল্যান্ড) তাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সোনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। একে “ডি-ডলারাইজেশন” বলা হয়। এর ফলে বাজারে সোনার চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে।

৪. সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ বেড়েছে। সাধারণত সুদের হার কমলে ডলার দুর্বল হয় এবং সোনার দাম বাড়ে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাঁচতে মানুষ সোনাকে “সুরক্ষিত সম্পদ” হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

৫. ভারতীয় বাজারে বিশেষ প্রভাব
ভারতে সোনার দাম বাড়ার পেছনে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি আরও একটি বড় কারণ রয়েছে:
টাকার অবমূল্যায়ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমে ৯১ টাকার নিচে নেমে গেছে। যেহেতু ভারত বেশিরভাগ সোনা আমদানি করে, তাই ডলারের দাম বাড়লে দেশীয় বাজারে সোনার দামও আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়।

বর্তমান মূল্যের এক নজরে চিত্র (জানুয়ারি ২১, ২০২৬)

বাজার বর্তমান দাম (আনুমানিক)
আন্তর্জাতিক বাজার ~$৪,৮৫০ – $৪,৮৭০ প্রতি আউন্স
ভারত (MCX) ~₹১,৫৭,০০০ প্রতি ১০ গ্রাম (২৪ ক্যারেট)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *