টাকার রেকর্ড পতন: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৯২-এর ঘরে ডলারের দাম

ভারতীয় মুদ্রার (টাকা) মান বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের পর থেকে শুরু হওয়া পতন অব্যাহত রেখে, আজ জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ তারিখের হিসেবে টাকা মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) এক পর্যায়ে ১ ডলারের দাম ৯২.০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। দিনের শেষে এটি সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯১.৮৮ টাকায় স্থির হয়।কেন টাকার এই রেকর্ড পতন?টাকার এই ক্রমাগত দরপতনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:১. বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার (FII Outflows): জানুয়ারি মাসেই বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলো ভারতের শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৩১,০০০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নিয়েছে। এই লগ্নিকারীরা তাদের লভ্যাংশ ডলারে রূপান্তরিত করে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা প্রবল বেড়েছে।২. আমদানি শুল্ক ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা: আমেরিকায় নতুন করে আমদানি শুল্ক (Tariffs) আরোপের সম্ভাবনা এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে লগ্নিকারীরা ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।৩. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড এবং ইউক্রেন ইস্যুতে আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে ডলারের কদর বাড়ছে।আমাদের ওপর এর প্রভাব কী হবে?আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি: বিদেশ থেকে আসা পণ্য, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, ইলেকট্রনিক্স এবং গ্যাজেটের দাম বাড়তে পারে।বিদেশ ভ্রমণ ও শিক্ষা: যারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন বা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।রপ্তানি খাতে সুবিধা: ভারতের আইটি (IT) কোম্পানি এবং টেক্সটাইল রপ্তানিকারকরা কিছুটা লাভবান হতে পারেন কারণ তারা ডলারে আয় করেন।রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করছে এবং তাদের কাছে প্রায় ৭০১ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রয়েছে, যা চরম বিপর্যয় রুখতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *