হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে বেহালাকে একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি হলেন পণ্ডিত বিষ্ণু গোবিন্দ যোগ (ভি. জি. যোগ)। ১৯২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পী প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভারতীয় সংগীতের জগতে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদ্ভাসিত হয়ে থাকেন।
পণ্ডিত যোগের সংগীত শিক্ষা শুরু হয় শঙ্কররাও আঠাভালে এবং গণপত রাও পুরোহিতের নিকট। পরবর্তীতে তিনি ড. এস. এন. রতনজংকর থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং কিছু সময়ের জন্য ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের সান্নিধ্যে ছিলেন। গ্বালিয়র, আগ্রা এবং বাখলে ঘরানার মিশ্রণে তিনি একটি স্বতন্ত্র রীতির সৃষ্টি করেন, যেখানে গায়কির সৌন্দর্য ও গটকারির দৃঢ়তা এক অনন্য মাধুর্যে মিলিত হয়েছে।
তাঁর সংগীতের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল অসাধারণ আবেগ, লয়কারির দক্ষতা এবং শ্রোতার মন বুঝে পরিবেশনা করার সক্ষমতা। ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি গড়ে তুলেছিল দেশ-বিদেশে অভূতপূর্ব সাড়া। তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং উপ-প্রধান প্রযোজক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন, যেখানে তিনি বহু শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
১৯৮২ সালে পদ্মভূষণ এবং ১৯৮৩ সালে সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার লাভকারী এই ‘ভায়োলিন সম্রাট’ ২০০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি কলকাতায় আমাদের ছেড়ে চলে যান। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে, আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ওই মহান শিল্পীকে, যাঁর সুর আজও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের আকাশে প্রতিধ্বনিত হয়।