পূর্ব মেদিনীপুরের এক গ্রামের রান্নাঘর থেকে এই বছরের তরুণী পুজারিণী প্রধান সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্থান করে নিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে @lifeofpuja নাম ব্যবহার করে তিনি পরিচিত। নাটকীয়তা, সাজসজ্জা বা আলোর সাহায্য ছাড়াই, খুন্তি তুলে ধরে এবং বঁটি দিয়ে সবজি কেটে তিনি বিশ্ব সিনেমা, সাহিত্য এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।
তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন, যদিও তার উচ্চারণে বাংলা টান স্পষ্ট। তবে, তার আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত দৃঢ়। গ্রামে ভিডিও তৈরি করা মানেই অনেক আলোচনা এবং বিচার-বিশ্লেষণ। সেই কারণেই তিনি মনে করেন যে, নিজের একটি আলাদা জগত তৈরি করতে হবে।
পুজারিণীর ভিডিওগুলো শুধুমাত্র স্বপ্নের আকাশে ভাসে না, বরং বাস্তবের গভীরে প্রবেশ করে। ঘরের এক কোণে ছেলেকে খেলতে দেখতে দেখতে তিনি পড়ছেন “A Thousand Splendid Suns” অথবা তাকেশি কিতানোর সিনেমা নিয়ে আলোচনা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফলোয়ারের সংখ্যা লাখেরও বেশি, কিন্তু বাড়িতে তিনি একজন সাধারণ বউ এবং মা—এই বাস্তবতা তিনি বিন্দুমাত্র অভিযোগ না করে গ্রহণ করেন।
তিনি যুক্ত করেন, একজন নারীর নিজের নামে আসলেই কোন বাড়ি থাকে না। তাই তাঁর স্বপ্ন—নিজের জমি এবং নিজের বাড়ি। ছেলে’র ভবিষ্যতের জন্য মুঠোফোন সঞ্চয়, বই কেনা এবং শিল্প শেখার মতো খুব সাধারণ কিন্তু সংগ্রামে ভরা চাওয়া।
পুজারিণীর ভিডিওতে দ্ব্যর্থতা বা চমক নেই। বরং, সেখানে রয়েছে কৌতূহল, সততা এবং নিজের পথে চলার এক অটল মানসিকতা। সোশ্যাল মিডিয়ার শোরগোলে, তিনি যেন এক শান্তির প্রতীক—একটি স্থানে যেখানে একজন নারী শুধুমাত্র মূহুর্তে আছেন, হারিয়ে যান না। মাঝে মাঝে, এই ছোট্ট বিষয়গুলোই করা যায় যথেষ্ট।