একুশে উচ্ছ্বাস, বাংলার বাস্তব

২১ ফেব্রুয়ারি এসে পৌঁছলে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং শিলচরে মাতৃভাষা নিয়ে বাঙালিরা আবেগ, গৌরব এবং উদ্বেগের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গসহ সব জায়গায় ভাষার মর্যাদা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এ প্রশ্নও উঠে আসে, এই উৎসবের উচ্ছ্বাস শেষে আমরা কি সারা বছরে বাংলা ভাষাকে চর্চা ও রক্ষা করতে সচেতন?
ভাষাতাত্ত্বিকদের দ্বার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৭ হাজার ভাষার মধ্যে অর্ধেকই এই শতকে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও বাংলা ভাষা এখন পর্যন্ত সে বিপদের সম্মুখীন হয়নি, তথাপি ভাষার নিরসনের লক্ষণগুলি দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভাষার প্রভাব, বিশেষভাবে ইংরেজির আধিপত্য, বাংলা ভাষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঔপনিবেশিক যুগে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার একদিকে নবজাগরণ ও আধুনিকতার উন্মোচন ঘটালেও, অন্যদিকে এটি মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষাকে পিছনের দিকে ঠেলে দেয়। পরে মাতৃভাষায় শিক্ষার বিস্তার সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভাষা বাঁচে তার ব্যবহার ও শিক্ষার মধ্যে।
বর্তমানে শহুরে জীবনে ‘বাংলিশ’-এর প্রাধান্য, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে ইংরেজির সম্পর্ক—এসব মিলে বাংলা ভাষার ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ‘শুভ নববর্ষ’-এর পরিবর্তে অনেক সময় ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাষাবিদদের মতে, ভাষা শেখার বিরুদ্ধে নয়, বরং মাতৃভাষাকে অবহেলা করাটা বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংরেজি ভাষা শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর জন্য বাংলা ভাষাকে ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনভাবে বাংলা ভাষার চর্চা করা প্রয়োজন, যা এই ভাষাকে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক রাখতে সহায়তা করবে। ভাষাপ্রেমীদের অভিমত হচ্ছে, উৎসবের তাত্পর্যের চেয়ে, প্রতিদিনের ব্যবহারে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা বেশি জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *