কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এর উত্থানের সাথে সাদা-কলার চাকরি নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে ভারতের তরুণদের আতঙ্কিত না হয়ে পরামর্শ দিয়েছেন নারায়ণ মুর্তি। কিছু মাস আগে ৭০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ সম্পর্কে তার বিতর্কিত মন্তব্যের পর আলোচনায় আসা Infosys-এর প্রতিষ্ঠাতা এবারে এআই নিয়ে বলেন, প্রযুক্তি নিজ থেকে সমতা তৈরিতে সক্ষম নয়; বরং যারা বেশি গ্রহণশীল, বিশ্লেষণ করতে পারে এবং দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, প্রযুক্তি তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করে।
একটি সাক্ষাৎকারে মূর্তি বলেছেন, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে তিনি নিজে অনুভব করেছেন যে একজন সুষ্ঠু ও প্রস্তুত ব্যক্তি এই প্রযুক্তি থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারেন। তাই তিনি তরুণদের পরামর্শ দিয়েছেন যে এআই-কে প্রতিযোগী নয়, বরং একটি সমর্থক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তাঁর মতে, যদি শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিরাম শেখার মানসিকতার সঙ্গে এআই দক্ষতা সংযুক্ত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। “ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে”—এমনই এক বার্তা তিনি দিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান Anthropic তাদের ‘Claude’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রভিত্তিক টুলস চালু করেছে, যা আইন, অর্থনীতি, মানবসম্পদ, প্রকৌশল এবং অপারেশনসের মতো ক্ষেত্রগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল কাজগুলি সম্পন্ন করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই দ্রুত উন্নতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে যে, এআই সম্ভবত প্রচলিত আইটি পরিষেবা এবং কনসাল্টিং ব্যবসাগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান IBM-এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে যখন বলা হয় যে এআই পুরনো লিগ্যাসি সিস্টেমগুলোর আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের ধারণা, এআই বিভিন্ন কাজের ধরনকে পরিবর্তিত করেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ কমাতেও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূর্তির মত অনুযায়ী, ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সুতরাং, ভবিষ্যৎ সেইসব মানুষেরই যারা পরিবর্তনকে স্বীকার করে নিজেদের সক্ষমতাকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে পারবে।