রেকর্ড পতন! ডলারের বিপরীতে ৯২-এর গণ্ডি পার করল রুপি, দুশ্চিন্তায় আমদানিকারকরা।

২০২৬ সালের ৩রা মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির (INR) ব্যাপক পতন ঘটেছে এবং এটি ৯২.০০-এর স্তর অতিক্রম করেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক চাপের একটি “পারফেক্ট স্টর্ম” বা ত্রিমুখী সংকটের কারণেই মূলত এই দরপতন।বর্তমান বাজারের অবস্থা (৩রা মার্চ, ২০২৬)বর্তমানে প্রতি ১ ডলারের বিপরীতে রুপির মান প্রায় ₹৯২.১৩।গত ২রা মার্চ রুপি এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের সম্মুখীন হয়েছে, যা এক সেশনেই প্রায় ০.৫% থেকে ০.৭% কমেছে।গত এক বছরে এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর মধ্যে রুপি অন্যতম; ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর মান প্রায় ৫% হ্রাস পেয়েছে।.বর্তমান এই অস্থিরতার পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে:পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সংকট: ইরান বিরোধী সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্ব বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় রুপির মতো উদীয়মান বাজারের মুদ্রা থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে “সেফ-হেভেন” হিসেবে পরিচিত মার্কিন ডলার এবং স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন।২. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৮% বেড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৮৫% তেল আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি তৈরি হয়।৩. বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। যখন তারা শেয়ার বিক্রি করে সেই অর্থ ডলারে রূপান্তর করে নিজ দেশে নিয়ে যান, তখন রুপির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়।রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) তাদের ফরেক্স রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে রুপির এই “ফ্রি-ফল” বা অবাধ পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তারা মূলত ৯২.০০-এর স্তরটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে তেলের দাম না কমলে রুপি অচিরেই ৯৩-৯৪ স্তরে পৌঁছে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *