বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) ভারতীয় টাকার দামে বড়সড় ধস নেমেছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য সব রেকর্ড ভেঙে আজ ৯২.৫০-এ গিয়ে ঠেকেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে তা ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৯২.৫০স্তরেও নেমে যায়।
টাকার এই রেকর্ড পতনের প্রধান কারণসমূহ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে চলা “পারফেক্ট স্টর্ম” বা একাধিক নেতিবাচক পরিস্থিতির সংযোগই ভারতীয় মুদ্রার এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত তার চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করায়, তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
শুক্রবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক (Sensex) ১৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বাজারের অস্থিরতা কমাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) আজ বেশ সক্রিয় ছিল। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বিভিন্ন বাজারে ডলার বিক্রি করে টাকার পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞের মতে, “পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরবিআই যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করত, তবে আজই টাকার দাম ৯৩-এর ঘর পেরিয়ে যেতে পারত।”
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের উপরেই থিতু হয়, তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকার দাম ৯৫.০০ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।