টানা তিন সেশনের পতন কাটিয়ে অবশেষে আজ বুলরা (তেজি বাজার) ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বেঞ্চমার্ক সূচকগুলো উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
Nifty 50: ২৩,৪০৯ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, বেড়েছে ২৫৮ পয়েন্ট (+১.১১%)।
Sensex: ৭৫,৫০২ পয়েন্টে স্থির হয়েছে, ৯৩৯ পয়েন্টের বড় লাফ দিয়েছে (+১.২৬%)।
প্রধান কারণ: ব্লু-চিপ শেয়ারগুলোতে আগ্রাসী ‘ভ্যালু বায়িং’ (কম দামে ভালো শেয়ার কেনা) ছিল আজকের প্রধান অনুঘটক। সাম্প্রতিক সংশোধনে বড় মুনাফা হাতছাড়া হওয়ার পর, বিনিয়োগকারীরা বিশেষ করে ব্যাংকিং এবং অটো সেক্টরে আকর্ষণীয় ভ্যালুয়েশন দেখতে পেয়েছেন। এছাড়া, ইরান-মার্কিন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ কমাতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগের খবরে বাজারের মনোভাব আরও ইতিবাচক হয়েছে।
গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে মন্দা থাকা সত্ত্বেও, আজ মার্কিন ফিউচারগুলো উর্ধ্বমুখী থাকায় এশীয় ও উদীয়মান বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারের আশেপাশে থাকায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কিছুটা দাম কমায় রুপিকে সাহায্য করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FIIs) এই মাসে প্রচুর শেয়ার বিক্রি করেছেন (৫২,০০০ কোটি টাকার বেশি), কিন্তু আজ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের (DIIs) কেনাকাটা সেই চাপকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছে।
মুদ্রা: ভারতীয় রুপি স্থিতিস্থাপকতা দেখালেও চাপে রয়েছে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯২.৪০-এর কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে।
ম্যাক্রো ডেটা: ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি (WPI) ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২.১৩%-এ পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি।
সেক্টর ভিত্তিক পারফরম্যান্স
সেরা পারফর্মার (বিজয়ী):
অটো ও ব্যাংকিং: M&M এবং HDFC Bank-এর নেতৃত্বে এই সেক্টরগুলো আজ উজ্জ্বল ছিল।
PSU স্টক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
মেটাল ও FMCG: উভয় সেক্টরে ০.৫% থেকে ১% বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।
পিছিয়ে থাকা সেক্টর (ল্যাগার্ডস):
ফার্মা এবং অয়েল ও গ্যাস: বিনিয়োগকারীরা যখন বিটেন-ডাউন সাইক্লিক্যাল স্টকের দিকে ঝুঁকেছেন, তখন এই সেক্টরগুলো লোকসানে শেষ করেছে।
রিয়েলটি: বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে, গত এক মাসে এই সূচকটি প্রায় ১৮% নিচে নেমেছে।
টপ গেইনার্স (Nifty 50)
M&M: এসইউভি (SUV) গাড়ির চাহিদার প্রত্যাশায় ৩.৫% বেড়েছে।
UltraTech Cement: পরিকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধির প্রত্যাশায় ৩.৩% বেড়েছে।
Grasim Industries: পেইন্ট ব্যবসায় ব্রোকারেজ হাউসের ইতিবাচক মন্তব্যে ২.১% বেড়েছে।
HDFC Bank: সাম্প্রতিক পতনের পর ভ্যালু বায়িং-এর কারণে ১.৮% বেড়েছে।
Trent: “Zudio” ব্র্যান্ডের সাফল্য এবং খুচরা বিক্রয় প্রসারের আশাবাদে ১.৯% বেড়েছে।
টপ লুজার্স (Nifty 50)
Bharat Electronics (BEL): গত কয়েক মাসের বড় উত্থানের পর মুনাফা সংগ্রহের (Profit booking) কারণে ৩.৭% কমেছে।
Sun Pharma: ফার্মা সেক্টরে সামগ্রিক মন্দার কারণে ১.৮% পড়েছে।
Coal India: বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতার কারণে ২.২% কমেছে।
Wipro: বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের খরচের বিষয়ে সতর্কতার কারণে আইটি সেক্টর চাপে রয়েছে, উইপ্রো ২.১% কমেছে।
Dr. Reddy’s: হেলথকেয়ার সেক্টরের সাধারণ প্রবণতা অনুসরণ করে ১.৮% হ্রাস পেয়েছে।
সংবাদে থাকা শেয়ারসমূহ
Bajel Projects: পুণেতে সাবস্টেশনের কাজের জন্য MSETCL থেকে ৭০০ কোটি টাকার একটি বড় অর্ডার পাওয়ার পর ১২% এর বেশি বেড়েছে।
Ramky Infrastructure: মহারাষ্ট্রে একটি হাই-টেক ফার্মা পার্ক তৈরির জন্য ৩,০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটি আলোচনায় রয়েছে।
IndiGo: মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট অপারেশন সমন্বয় এবং এটিএফ (ATF) খরচ মেটাতে ফুয়েল সারচার্জ চালুর কারণে স্টকটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
Jio Financial Services: রিইনস্যুরেন্স কার্যক্রম শুরু করতে আলিয়াঞ্জের (Allianz) সাথে যৌথ উদ্যোগের জন্য IRDAI-এর অনুমোদন পেয়েছে।
নিফটি ২৩,৪০০ স্তরে ফিরে এসেছে, যা মানসিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
সাপোর্ট: তাৎক্ষণিক সাপোর্ট ২৩,০০০-এ রয়েছে। এটি ভাঙলে পরবর্তী প্রধান সাপোর্ট জোন হবে ২২,৮০০।
রেজিস্ট্যান্স: সূচকটি ২৩,৫০০-তে কঠোর বাধার সম্মুখীন হতে পারে। এর উপরে বাজার বন্ধ হলে ২৩,৭৫০-এর পথ খুলে যেতে পারে।
বাজার পূর্বাভাস
বিনিয়োগকারীদের মার্কিন ফেড-এর মন্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা উচিত। আজকের পুনরুদ্ধার একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও, নিফটি ২৩,৮০০-এর উপরে ধারাবাহিকভাবে না থাকা পর্যন্ত প্রবণতাটি “সেল অন র্যালি” (বাড়লে বিক্রি করা) হিসেবেই থাকছে।
আগামীকালের সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে—দেখা যাক বুলরা এই গতি বজায় রাখতে পারে কি না, নাকি এটি কেবল একটি ‘ডেড-ক্যাট বাউন্স’ (সাময়িক উত্থান) ছিল।