আসামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বিশেষ নিদর্শন হল ‘সাঁচিপাট পুথি চিত্র’, যা এবার প্রথমবার দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক শিল্পমঞ্চে স্থান পেতে চলেছে। ৬৫ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার, যে আসামের এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপি-ভিত্তিক চিত্রকলাকে ললিত কলা আকাদেমির ৬৫তম জাতীয় শিল্প প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
নাগাঁও জেলার শিল্পী সুজিত দাসের হাত ধরে এসেছে এই ঐতিহাসিক সাফল্য। তিনি সম্পূর্ণ পরম্পরাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে সাঁচিপাট ও প্রাকৃতিক রঙের মাধ্যমে তাঁর শিল্পকর্ম রচনা করেছেন। তাঁর কাজগুলি আসামের পুথি চিত্রকলার সূক্ষ্ম কারুকার্য, আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং নান্দনিক রূপের এক অনন্য সংমিশ্রণকে তুলে ধরে।
এছাড়াও, সুজিত দাস সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের একজন অনুমোদিত শিক্ষক এবং পরিষদের একজন গর্বিত সদস্য। তাঁর এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন হতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পরিষদের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মাঝের ছয় দশক ধরে, এই জাতীয় প্রদর্শনীতে দেশের নানা অঞ্চলের আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার চিত্রায়ণ করা হয়েছে। তবে, এবার আসামের সাঁচিপাট পাণ্ডুলিপি চিত্রকলার অন্তর্ভুক্তি সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ, যা রাজ্যের মানুষের জন্য গর্বের এবং চিত্তাকর্ষক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সম্মান লাভের পর শিল্পী সুজিত দাস তাঁর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই স্বীকৃতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আসামের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। তিনি আশা করেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই শিল্পের সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সুজিত দাস দীর্ঘদিন ধরে সাঁচিপাট ও অসমীয় পুথি চিত্রকলার চর্চা করে আসছেন। তিনি প্রাকৃতিক রঙ এবং প্রাচীন কৌশল ব্যবহার করে এই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পধারাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।