মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (INR) মান আজ ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬, সর্বকালীন নিম্নস্তরে পৌঁছেছে এবং প্রথমবারের মতো ৯৫ টাকার মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি অতিক্রম করেছে। আজ বাজার খোলার পরেই টাকার মান কমে ৯৫.০১-এ দাঁড়ায় এবং লেনদেনের শুরুতে তা আরও পড়ে গিয়ে ৯৫.২০–৯৫.৩২ টাকায় পৌঁছায়।
টাকার এই রেকর্ড পতনের পেছনে মূলত পাঁচটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ফটকা কারবার বা স্পেকুলেশন রোধে বিরল কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পর, চলতি মাসের শুরুতে অর্জিত প্রায় সমস্ত মুনাফা হারিয়ে এই মুদ্রাটি টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের মুখে পড়েছে।
গতরাতের বৈঠকে ফেড (Fed) সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ১৯৯২ সালের পর থেকে এটিই ছিল সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, যেখানে তিনজন কর্মকর্তা মুদ্রানীতি শিথিল করার অব্যাহত নির্দেশনার বিপক্ষে তাঁদের ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
বুধবার তেলের দাম আরও একবার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃহস্পতিবার এশিয়ার ট্রেডিং সেশনেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের সর্বশেষ দর প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১৪% মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারত তার প্রয়োজনের ৮০ শতাংশের বেশি তেল আমদানি করে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ভারতের আমদানি খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ডলারের চাহিদা প্রবল হয়েছে।
ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ক্রমাগত তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই ৫৮,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ বাজার থেকে চলে গিয়েছে। গতকালও প্রায় ২,৪৬৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন তারা, যা টাকার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার ইনডেক্স
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়া মুদ্রানীতির কারণে গ্লোবাল মার্কেটে ডলারের সূচক (DXY) বর্তমানে ৯৮.৯৬-এর কাছাকাছি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রার তুলনায় ডলার বর্তমানে অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক মনে হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকেই ঝুঁকছেন।
টাকার এই তাৎক্ষণিক পতনের পেছনে ‘সান ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর একটি বড় ঘোষণা কাজ করছে। তারা ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ‘Organon & Co’ অধিগ্রহণের ঘোষণা করেছে। এই বিশাল অংকের নগদ ডলারের লেনদেন দেশীয় বাজারে ডলারের ঘাটতি তৈরি করেছে।
অভ্যন্তরীণ শিল্পের মন্থর গতি
ভারতের শিল্প উৎপাদন সূচক (IIP) মার্চ মাসে ৪.১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিল্পক্ষেত্রে এই মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ঘাটতি ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে টাকার মূল্যে।