দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। আবেগ, সংগ্রাম এবং অদম্য প্রত্যয়ের এক চমৎকার গল্প গড়ে তুললো ইস্ট বেঙ্গল অফ সি, যা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। তারা ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো আইএসএল চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার, কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকরা ইতিহাসের এক সাক্ষী হয়ে রইলেন।
ম্যাচটি শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের জন্য খুবই সুবিধাজনক ছিল না। ১৪ মিনিটের মাথায় আলফ্রেড পানাসের একটি গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশি। আচমকাই পিছিয়ে পড়ায় লাল-হলুদ দলের মধ্যে কিছু চাপ পড়ে যায়। তবে, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আবারও মাঠে ফুটে উঠল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৪৯ মিনিটে এজেজারির দুর্দান্ত শটে সমতায় ফিরে আসে ইস্টবেঙ্গল। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি এই বছরের জন্য গোল্ডেন বুটও অর্জন করেন, কারণ এটি তার মৌসুমে করা সর্বাধিক গোল। সমর্থকদের উল্লাসে যেন গোটা স্টেডিয়াম কাঁপতে থাকে।
এরপর ৭২ মিনিটে আসে সেই স্মরণীয় মুহূর্তি। রশিদের জোরালো শটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এ মৌসুমে। এ মৌসুমে তার প্রথম গোলটি দলটিকে দেশের সেরা হওয়ার সম্মান এনে দেয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির সবাই। চোখের জল আর মুখের হাসিতে ২২ বছরের কষ্ট যেন এক মুহূর্তেই মুছে গেলো।
কোচ অস্কার ব্রিজনের নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ট্রফিহীন থাকবার পর ক্লাবটি আবারও জাতীয় শ্রেষ্ঠতার শীর্ষে পৌঁছেছে। অপরদিকে, যুবভারতীতে মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট দিল্লিকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে। উভয় দলই লিগে ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে; কিন্তু গোলপার্থক্যের ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি জিতে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য এটি শুধুমাত্র একটি ট্রফি নয়, এটি এক নতুন আবেগের উদ্ভব। সেই ছিন্নমূল সাহসের মশালটি আবার ভারতীয় ফুটবলের গগনে জ্বলে উঠেছে।