ভারতে শুরু নতুন শিল্প বিপ্লব: মহাকাশ ও সেমিকন্ডাক্টরসহ ৬টি খাতে বড় উত্থানের সংকেত দিল Jefferies

গ্লোবাল ব্রোকারেজ ফার্ম Jefferies তাদের সাম্প্রতিক ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজি রিপোর্ট “India’s New Industrial Revolution”-এ ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। বিশ্বমানের কৌশলগত পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরকারের উৎপাদন-ভিত্তিক আর্থিক উৎসাহ (PLI) প্রকল্পের ওপর ভর করে ভারত এখন এক নতুন শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

Jefferies-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রধান যে ৬টি উদীয়মান খাত আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে:

মহাকাশ গবেষণা ও স্পেস টেক (Space Sector): ২০২০ সালে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হওয়ার পর ভারতীয় স্পেস-টেক ইকোসিগস্টেমে জোয়ার এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার মূল্য ৫ গুণ বেড়ে $৪০–৪৫ বিলিয়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। Skyroot, Agnikul এবং Pixxel-এর মতো স্টার্টআপগুলি এতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductors): নীতিগত পরিকল্পনা কাটিয়ে ভারত এখন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের বাস্তবায়ন পর্বে প্রবেশ করেছে। মেগা ফ্যাব্রিক্যান্ট (Fab) ও OSAT প্রজেক্টসহ প্রায় $২০ বিলিয়ন মূল্যের বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় চিপ ডিজাইন বৃদ্ধিতে আরও $১৩ বিলিয়ন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

ডেটা সেন্টার (Data Centres): দ্রুত ডিজিটালাইজেশন এবং ক্লাউড ব্যবহারের ফলে দেশে ডেটা সেন্টারের চাহিদা আকাশচুম্বী। রিপোর্টে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে ভারতের ডেটা সেন্টার ক্ষমতা আগামী কয়েক বছরে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং (Electronics Manufacturing): অ্যাসেম্বলিং বা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর কাজ ছাড়িয়ে ভারত এখন বিশ্বমানের কম্পোনেন্ট উৎপাদনে নজর দিচ্ছে। PLI স্কিমের প্রভাবে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও আইটি হার্ডওয়্যার উৎপাদনে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে।

সৌর শক্তি উৎপাদন (Solar Manufacturing): ২০৭০ সালের মধ্যে “নেট-জিরো” কার্বন নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনে সোলার সেল, মডিউল ও ওয়েফারের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমবে।
অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা (Aerospace & Defence): ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচল খাত এখন বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনে প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রতিরক্ষা করিডোর এবং দেশীয় ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই খাতে বেসরকারি মূলধন দ্রুত বাড়ছে।

Jefferies পরিষ্কার জানিয়েছে যে, ভারত কেবল কারখানা তৈরি করছে না; বরং একটি সম্পূর্ণ শিল্প ইকোসিস্টেম (Industrial Ecosystem) গড়ে তুলছে, যা কেবল ঘরোয়া চাহিদাই মেটাবে না, আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারেও ভারতের প্রাধান্য বিস্তার করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *