বিশ্বমঞ্চে বাংলার জয়জয়কার! প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০২৬-এর অস্কার ক্লেইন মেডেল পেলেন বাঙালি পদার্থবিদ অশোক সেন

বিশ্বের দরবারে আবারও উজ্জ্বল হয়েছে বাংলার নাম। আন্তর্জাতিক পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন মেডেল পুরস্কৃত হয়েছেন বিশিষ্ট ভারতীয় বিজ্ঞানী অশোক সেন। এই সম্মানটি প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় পদার্থবিদের হাতে উঠল। স্ট্রিং থিওরি, ব্ল্যাক হোল ও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা নিয়ে তাঁর দীর্ঘ বছরের গবেষণার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

অশোক সেন ১৯৫৬ সালের ১৫ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই একটি শিক্ষামুখী পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা, অনিল কুমার সেন, স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন। কলকাতার শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যাপীঠ থেকে স্কুলের শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পরে, আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আমেরিকার স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আরও অধ্যয়ন করেন।যায় পিএইচডি করেন তিনি।

আধুনিক পদার্থবিদ্যার একটি জটিল ক্ষেত্র স্ট্রিং থিওরি, যেখানে অশোক সেনের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এই তত্ত্বটি মহাবিশ্বের মৌলিক কণিকা এবং প্রকৃতির মৌলিক বলগুলোকে একসাথে বোঝার সম্ভাবনা প্রদান করে। বিশেষ করে, তাঁর “এস-ডুয়ালিটি” সংক্রান্ত গবেষণা স্ট্রিং থিওরির বিভিন্ন দিকের মধ্যে গূঢ় সম্পর্ক উন্মোচনে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

এছাড়া, ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি এবং তার কোয়ান্টাম প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর কাজও অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। মহাকর্ষ এবং কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার মাঝে সম্পর্ক অনুসন্ধানে এই গবেষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
অশোক সেনকে অস্কার ক্লেইন মেডেল সহ একাধিক আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। তাঁর কৃতিত্বের তালিকায় পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, ডিরাক মেডেল এবং ইনফোসিস পুরস্কারের মতো পদকও রয়েছে। এছাড়া, ২০১২ সালে তিনি ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সের অন্যতম প্রাপক ছিলেন।ন। ওই পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ছিল ৩০ লক্ষ ডলার।

বর্তমানে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসের সঙ্গে যুক্ত আছেন অশোক সেন। সুইডিশ পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই পদক আধুনিক পদার্থবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের সনদ হিসেবে কাজ করে। কলকাতার শিক্ষাঙ্গন থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণা ক্ষেত্রে উচ্চ শিখরে পৌঁছানো অশোক সেনের এই সম্মান শুধুমাত্র বাংলার জন্যই নয়, বরং গোটা ভারতের বিজ্ঞানচর্চার জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *