বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবকিছু ভালো হলে আগামী সপ্তাহের সূচনাতেই ‘অর্ণব’ নামে পরিচিত এই ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হতে পারে, যা চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় হবে।
জানা যাচ্ছে, ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার সকালে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এটি প্রথমে গভীর নিম্নচাপ এবং এরপর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে। এরপর এই ঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়টি ঠিক কোথায় আছড়ে পড়বে অথবা কখন স্থলভাগে প্রবেশ করবে, সেই সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ফেলতে পারে আগামী ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২৭ অক্টোবর থেকে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা প্রধান করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ার আগে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের দাবি, বঙ্গোপসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বর্তমানে প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উষ্ণ সাগরের জল এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা এবং সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের স্থান সম্পর্কে আরো নির্দিষ্ট তথ্য পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে জানা যাবে।
সুতরাং, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন।