শারদীয়ার আবহে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার এক অসাধারণ মিলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে কলকাতার ঐতিহাসিক শোভাবাজার রাজবাড়ির নাটমন্দির। ত্রিতাল ফাউন্ডেশন অফ পারফর্মিং আর্টস-এর সহযোগিতায় ১১ অক্টোবর, রবিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আগমনী উৎসব’। নৃত্য, সঙ্গীত এবং আবৃত্তির মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করেন ত্রিতাল ফাউন্ডেশন অফ পারফর্মিং আর্টস-এর পরিচালক শ্রীমতি দেবাণ্বিতা দত্ত এবং শ্রী রাজীব দত্ত। ছবিগুলি ধারণ করেছেন শ্রী নীলাঞ্জন দে, ভিডিওগ্রাফির কাজটি করেন শ্রী সমিক পাল এবং সাক্ষাৎকারের সঞ্চালনা করেন শ্রীমতি স্বর্ণা সোমা বসু। এই বিশেষ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল HR Plus Bangla, International News Star এবং Bong Series।
‘আগমনী উৎসব’-এর একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, নৃত্য শিক্ষা কেন্দ্র এবং আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের উচ্ছল অংশগ্রহণ। তাঁদের শিক্ষকদের নির্দেশনায় শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রুতি কথন আবৃত্তি কেন্দ্রের সৃজা চ্যাটার্জী, কবিতা কর্নারের দেবাঞ্জলি বসু, সৃষ্টি সুখের উল্লাসের অতনু চট্টোপাধ্যায়, ছাতিম নৃত্যকলা মন্দিরের সোনালী সাঁতপুই দাস, শিবম ড্যান্স অ্যাকাডেমির স্বরূপা ভট্টাচার্য, বনগাঁ সু-সংস্কৃতি মননের সোমঞ্জনা মুন্সী, তালাঙ্গম ড্যান্স অ্যাকাডেমির লাবণী কর দেব, লহরী নৃত্য শিক্ষা কেন্দ্রের স্বাতী চক্রবর্তী, বাবুন এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারের প্রধান বাবুন এবং গুরু কোয়েল সাঁতরা, পাশাপাশি তাপসী ড্যান্স অ্যাকাডেমির তাপসী পাল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন পায়েল ড্যান্স ট্রুপের মৌসুমী ভাণ্ডারী, নৃত্যাঙ্গন ড্যান্স অ্যাকাডেমির পাপিয়া ঘোষ, নৃত্যমের নিবেদিতা দাস, ঈমান কল্যাণ সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের লিডার উমা চক্রবর্তী, এবং গুরু সৌমিতি রায় ও অমৃতা মহাপাত্র। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ইমন ড্যান্স গ্রুপের স্নেহা সমাদ্দার ও রিতিকা ঘোষ, চিরন্তন ড্যান্স গ্রুপের শ্রুতিনিকা দাস, নারায়ণ রিদম মাস্তি ড্যান্স অ্যাকাডেমির নারায়ণ দাস ও পৌষালী চক্রবর্তী, নৃত্য ময়ূরম ড্যান্স অ্যাকাডেমির রিয়া সরকার, নটরাঙ্গিয়া ড্যান্স অ্যাকাডেমির সানা দত্ত, যোগ ও বিয়োগের অদিতি পাত্র, তাহিয়া ড্যান্স অ্যাকাডেমির প্রার্থিতা মাজী, রিদম ড্যান্স অ্যাকাডেমির ঐন্দ্রিলা রায় এবং তারানা কলা কুঞ্জের সুদীপ্তা দে।
দলগত পরিবেশনার পাশাপাশি একক এবং যৌথ উপস্থাপনায় অংশ নিচ্ছেন একাধিক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে দেখা যায় মৃৎসা চক্রবর্তী, ঋতপ্রিয়া সাহা, অদিতি চ্যাটার্জী, দেবলীনা রায়, অপর্ণা রায়, ইন্দুষ্রী আদক, চন্দ্রিমা দাস, পিয়াসা চক্রবর্তী, কৌশানী মল্লিক, স্নেহা দাস, প্রিয়শ্রী মণ্ডল, ইভাংশী মণ্ডল, সুপর্ণা ঘোড়াই, স্বপ্নশ্রী চৌধুরী, অদৃতা চক্রবর্তী, রম্যণী মজুমদার, শ্রেয়া আদক, চিরাশ্ৰী মান্না, প্রেরণা সৎপতী, শর্মীক্ষা ঘোরুই, সুচনা কর্মকার, আরোহী পান ও আরোষী পান, সমাদৃতা মুখার্জি, প্রিয়াঙ্কা কাশ্যপী, সুমেধা সরকার, রেখি সরকার, শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য, শ্রীতোমা রায় মুখার্জি এবং আরণ্যক কুন্ডু। বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের একত্রিত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিতে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বের শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পীদের হাতে মেমেন্টো ও সার্টিফিকেট তুলে দিয়ে তাঁদের সম্মান জানানো হয়। এই সাফল্য কেবল তাঁদের শিল্পচর্চায় উৎসাহ দেয় না, বরং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের স্মৃতিরূপেও গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে পরিচালক দেবাণ্বিতা দত্ত এবং রাজীব দত্ত সকল অংশগ্রহণকারী সাংস্কৃতিক দল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলার নৃত্য, সঙ্গীত এবং আবৃত্তির চর্চাকে উৎসাহিত করার ধারাবাহিক প্রয়াসের মধ্য দিয়ে ‘আগমনী উৎসব’ সমাপ্ত হয়। ঐতিহ্যবাহী শোভাবাজার রাজবাড়ির নাটমন্দিরে এই আয়োজন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পী এবং শিক্ষার্থীদেরকে এক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করার বার্তা প্রদান করে।