সফলতার ছোঁয়ায় অল ইন্ডিয়া মেরিট টেস্ট ও ট্যালেন্ট সার্চ প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনের পর্ব

সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ (SSSP) দ্বারা আয়োজিত ৪৮তম সর্বভারতীয় ট্যালেন্ট সার্চ এবং মেরিট টেস্টের তৃতীয় দিনটি শিল্পচর্চার এক বিশেষ এবং গৌরবময় পর্ব হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিন, কলকাতার সংস্কৃতি ভবন এবং হঠকেশ্বর ভবনের বিভিন্ন কক্ষে দেশের নানা অঞ্চল থেকে আগত বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তাদের সাধনা ও শৃঙ্খলার উপর পরীক্ষা দিতে হাজির হন।
তৃতীয় দিনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ধারার মূল্যায়ন। অংশগ্রহণকারীদের পরিবেশনায় দীর্ঘদিনের অনুশীলনের ছাপ স্পষ্ট—কিছু স্থানে তাল ও লয়ের নিখুঁত সমন্বয় লক্ষ্যণীয়, আবার কিছু অন্যান্য স্থানে শরীরী ভঙ্গির স্থিতি ও সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়, যেখানে ঘুঙুরের ছন্দের সুরে পরিবেশন করা হয়। বিচারকেরা নম্বর প্রদানের পাশাপাশি শিল্পীদের মনোসংযোগ, শারীরিক নিয়ন্ত্রণ এবং উপস্থাপনার সামগ্রিক পরিশীলনের ওপরও বিশেষ দৃষ্টি দেন।
এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ভারতনাট্যম নৃত্যশিল্পী এবং সংগীতশিল্পী শ্রীমতী গীতা চন্দ্রন। তাঁর সান্নিধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশে গম্ভীরতা এবং অনুপ্রেরণা যোগ করেছিল। নবীন শিল্পীদের জন্য তিনি ছিলেন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা—শিল্পের উচ্চ মান এবং নিষ্ঠার একটি প্রতীক।
প্রতিযোগিতার সময় অপেক্ষমাণ কক্ষ ও করিডর জুড়ে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের নীরব উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যায়। কেউ প্রথমবারের মতো সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ বহু বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে নিজেকে প্রমাণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক ড. শান্তনু সেনগুপ্ত মন্তব্য করেছেন যে, এই মেরিট টেস্ট শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের শিল্পীদের প্রতিভা ও শৃঙ্খলার মূল্যায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তৃতীয় দিনের এই গভীর মূল্যায়নের মাধ্যমে শিল্পী তৈরি করার এই জাতীয় যাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *