বারো মাসে তেরো পার্বণের বাংলায় আয়োজিত মেলাগুলি শুধুই একটি উৎসব নয়, বরং অর্থনীতি এবং শিল্পের একটি শক্ত ভিত্তি। প্রাচীন সময়ের হাটবাজার থেকে শুরু করে ধর্মীয় উৎসবের কেন্দ্রগুলোতে জনসমাবেশ—এই সবকিছু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে। আজকের দিনে, মেলা হয়ে উঠেছে কুটিরশিল্প ও লোকশিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপণন মঞ্চ।
শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা, বিষ্ণুপুর বা কলকাতার হস্তশিল্প মত উপলব্ধি গ্রামীণ শিল্পীদের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ডোকরা, নকশিকাঁথা, শোলা, টেরাকোটা এবং বাঁকুড়ার ঘোড়া মত ঐতিহ্যবাহী শিল্পের কাজ এখন বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শিল্পী ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে গেছে এবং এর ফলে শিল্পীদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, রাজ্যে প্রায় ৫.৫ লক্ষ কারিগর হস্তশিল্পের ক্ষেত্রে সক্রিয়, যাঁদের একটি বড় অংশ মহিলারা। মেলা-কেন্দ্রিক বিক্রিব্যবস্থা তাঁদের স্বনির্ভরতার উন্নয়নকে সহজ করেছে। বিশ্ব বাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশন ও রুরাল ক্রাফ্ট হাবের মতো সরকারি প্রকল্পগুলি শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য সহায়তা প্রদান করছে।
ডিজিটাল যুগের আগমনে মেলার রূপের অনেক পরিবর্তন এসেছে। ইউপিআই, কিউআর কোড, অনলাইন প্রচার এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সাহায্যে স্থানীয় মেলাগুলি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি লাভ করেছে। এভাবে, বাংলার মেলা আর কেবল একটি আনন্দের উৎসব নয়—এটি শিল্প, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে পরিণত হয়েছে।