ঢাকা সংলগ্ন নরসিংদিতে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন স্থানে আজ সকালে তীব্র কম্পন ঘটেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০:০৮ নাগাদ, ভূমিকম্পটি ১৩ কিমি গভীরে সংঘটিত হয়েছে, যার কেন্দ্র ছিল ঢাকার প্রায় ৫০ কিমি দূরে, এ তথ্য জানিয়েছে ইউএসজিএস ও আইএমডি।
কলকাতার সকাল ১০:১০ মিনিটে একটি হালকা কম্পনের কারণে ভূমিধ্বস হলেও অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একই সময়ে কোচবিহার, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুরে কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়াও গাওহাটি, আগরতলা এবং শিলং থেকেও এই কম্পন অনুভব করার খবর পাওয়া গেছে।
এই ভূমিকম্পের কারণে এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বাংলাদেশের প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি কিন্তু জানা গিয়েছে, কোসাইতলিতে পাঁচতলা বিল্ডিংসের রেলিং ভূমিকম্পের সময় ভেঙে পড়ে এবং তার সাথে আহত হন তিন জন পথচারী। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মৃত বলে ঘোষিত করেন। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্র থেকে খবর পাওয়া যায়, মৃতদের মধ্যে রয়েছে একজন শিশু ও একজন সেই কলেজেরই পড়ুয়া কিন্তু তৃতীয়জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাছাড়াও ভূমিকম্পের জেড়ে বাংলাদেশের টঙ্গির বিসিক এলাকায় একটি পোষাকের কারখানায় হুড়োহুড়ি পরে যায় এবং কারখানা থেকে হুটোপাটি করে বেরোতে গিয়ে আহত হন ২০০ শ্রমিক।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, এই কম্পন সমসাময়িক কালের মধ্যে সর্বোচ্চ আর যে অঞ্চলে তা হয়েছে, ইন্দো- বার্মা টেকটোনিক প্লেটের অংশের ঘর্ষণের কারণেই হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।