ঢাকায় অনুষ্ঠিত মহিলা কবাডি বিশ্বকাপ ২০২৫-এ ভারতীয় নারী দলের গৌরবময় উজ্জ্বলতা আবারও প্রকাশিত হলো। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে দৃষ্টিহীন মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপে তাদের সাফল্যের পর, সোমবার তারা চাইনিজ তাইপেকে ৩৫-২৮ ব্যবধানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় করলো। ম্যাচের শুরু থেকেই রিতু নেগি ও পুষ্পা রানের নেতৃত্বে ভারতীয় দল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে এগিয়ে যায়, এবং প্রতিপক্ষকে ফিরে আসার কোন সুযোগই দেয়নি।
ফাইনালে ভারতের শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং সুসংগঠিত রেইডগুলি চাইনিজ তাইপেকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রাখে। বিরতির পর ভারত তীব্র আক্রমণ শুরু করে, যা প্রতিপক্ষের ছন্দে আঘাত করে। পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের খেলায় একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীও এই অর্জনে দলের সদস্যদের অভিনন্দিত করেছেন, যা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই বার্ষিক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রিতু নেগি, এবং তাঁর সহ-অধিনায়ক পুষ্পা রানার পাশাপাশি সুশৃঙ্খল রেইড-ডিফেন্স দলটির সাফল্য নিশ্চিত করেছে। চাম্পা ঠাকুর, ভাবনা ঠাকুর এবং সাক্ষী শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সকলের নজর কাড়ে ছত্তিশগড়ের ২৩ বছর বয়সী রেইডার সঞ্জু দেবীর উত্থান—যিনি প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্সে বিশেষ চিহ্ন রেখে যান।
কৌশলগত দিক থেকে ভারত শীর্ষে ছিল। প্রধান কোচ তেজস্বী এবং সহকারী কোচ প্রিয়াঙ্কার পরিকল্পনার ফলে দলটি সেমিফাইনালে ইরানকে ৩৩–২১ ব্যবধানে পরাজিত করে সহজেই ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। রেইডিং কম্বিনেশন, ডিফেন্সিভ সেটআপ এবং সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল একটি অভূতপূর্ব দলগত পারফরম্যান্স।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত আবারও প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব কবাডিতে মেয়েদের নেতৃত্ব এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।