‘কুছ্ দিল্ নে কাহা’—লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি যেন হৃদয়ের অন্তরালে একটি নিঃশব্দ কথোপকথন। ঋষিকেশ মুখার্জির ছবির নাম ‘অনুপমা’ (১৯৬৬) এ এই সুরটি কেবল এক তরুণীর লুকানো আবেগকেই প্রকাশ করে না, বরং সেই সময়ের নারীর অন্তরজগতকেও তুলে ধরে। ছবিতে শর্মিলা ঠাকুরের চরিত্রটি একটি দমিত এবং ভীতু মেয়ের চিত্র তুলে ধরে, যাকে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তার বাবা প্রত্যাখ্যান করে, কারণ তার প্রিয় স্ত্রীর জন্মদানের সময় মৃত্যু ঘটেছিল।
কাইফি আজমির রচিত গানটি এমন একটি বিরল সৃষ্টি, যেখানে একটি নায়িকার অন্তরের সংশয়, আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মসংবরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। প্রথম লাইন থেকেই দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট—যৌবনের আকাঙ্ক্ষা পুঞ্জীভূত, কিন্তু তা প্রকাশ করতে ভয়ও রয়েছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর এবং ভীমপালাসির অনুরণনে গানটি আবেগের গভীরতাকে অক্ষুণ্ণ রেখে এগিয়ে চলে—এটি কোমল, সংযত এবং আবারও গভীর। মেঘে ঢাকা মহাবলেশ্বরের প্রাকৃতিক দৃশ্যে গানটির চিত্রায়ণ সেই অভ্যন্তরীণ অনুভূতিকে আরও ধোঁয়াশা ও কবিতাময় করে তোলে।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (হেমন্ত কুমার) একটি সাক্ষাৎকারে লতাকে “বরদান” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই গানে তাঁর প্রতিভার উজ্জ্বলতা স্পষ্ট বোঝা যায়, যেন তিনি নিঃশ্বাসের মতো সুরকে বুনে দেন। “এসি ভি বাতেঁ হোতি হ্যায়”-এর গভীর আওয়াজ, “সোতি হ্যায়”-এর উচ্চারণ—all মিলিয়ে সৃষ্টি করেছেন একটি অনন্য গায়কির আবেদন।
এরই মধ্যে আরেকটি অসাধারণ লতা-গান ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে, যেখানে দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তির প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সেইসঙ্গে হিন্দি ছবিগুলোর মধ্যে নারীদের প্রতিভা প্রায়শই স্বামীর অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতাও ফুটে ওঠে—এটি এই ছবির মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তবুও, লতা, আশা, গীতা দত্ত, শামশাদ বেগমদের মতো গায়িকারা তারুণ্যের উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়িয়ে দেন।
এ কারণেই বাস্তবের শক্তি পর্দার দৃষ্টিভঙ্গির উপরে প্রাধান্য বিস্তার করে। ‘কুছ্ দিল্ নে কাহা’ মাত্ৰ একটি গান নয়—এটি একটি সময়ের সমাজের প্রতিফলন, এক নারীর নিঃশব্দ আকুতি, এবং এক সুরের অন্তর্নিহিত স্বাধীনতা প্রদর্শন করে।