স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তের ১২৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মহিষাদল বিশ্বকলা কেন্দ্রের উদ্যোগে মহিষাদলে আয়োজিত হল দুই দিনব্যাপী চারুকলা উৎসব। বৃহস্পতি ও শুক্রবার মহিষাদলের রবীন্দ্র পাঠাগার ও সিনেমা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই উৎসবকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সংস্কৃতির পাশাপাশি মানবিকতার বার্তাও বহন করেছে এই উৎসব। মহিষাদল বিশ্বকলা কেন্দ্রের উদ্যোগে রূপনারায়ণ নদীর তীরে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার অমৃতবেড়িয়া, দনীপুর-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে শীতের কম্বল তুলে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে ভবঘুরে মানুষদের মধ্যেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।
উৎসবের দু’দিন জুড়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতা, জিভের লড়াই ও আন্তঃবিদ্যালয় কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্তঃবিদ্যালয় কুইজে জেলার ৫০টিরও বেশি স্কুল অংশগ্রহণ করে, যা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল গহনা–বড়ি প্রতিযোগিতা। হলদিয়া, তমলুক, কাঁথি, মেছাদা, খড়গপুর, মেদিনীপুর, ময়না, পাঁশকুড়া, নন্দীগ্রাম-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৮০ জন মহিলা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং চারুকলা উৎসবকে আলাদা মাত্রা দেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে গুণীজন সংবর্ধনার পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্পাদক বিশ্বনাথ গোস্বামী জানান, গহনা–বড়ি প্রতিযোগিতায় প্রথম ছয়জনকে পিতলের থালা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়াও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে সকল অংশগ্রহণকারীকে গাছের চারা ও নতুন বছরের ক্যালেন্ডার উপহার দেওয়া হয়।
বিশ্বনাথ গোস্বামী আরও বলেন, “সমাজকে সাংস্কৃতিক মনস্ক করে তোলা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” সংস্কৃতি ও সমাজসেবার এই মেলবন্ধনে মহিষাদলের চারুকলা উৎসব হয়ে উঠল এক অনন্য ও স্মরণীয় উদ্যোগ।