মণিপুরের ইম্ফল উপত্যকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩৭,০০০ বছর পুরনো একটি বাঁশের জীবাশ্ম, যা এশিয়ার সুপ্রাচীন কাঁটাযুক্ত বাঁশের প্রমাণ হিসেবে পরিচিত। এই জীবাশ্মটি চিরাং নদীর তীরবর্তী সিল্টযুক্ত স্তর থেকে পাওয়া যায় এবং এতে দেখা যায় অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কাঁটার চিহ্ন। এটি প্রাচীনকালে তৃণভোজী প্রাণীদের বিরুদ্ধে বাঁশের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি স্বাক্ষর হিসেবে বিবেচিত।
বাঁশের কোমল ও ফাঁপা কান্ড দ্রুত পচে যাওয়ার কারণে তার জীবাশ্ম রূপে পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ। এই কারণে এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞান জগতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বীরবল সাহনী ইনস্টিটিউট অফ প্যালিওসায়েন্সেস (BSIP)-এর গবেষকরা জীবাশ্মের গঠনগত বৈশিষ্ট্য—যেমন গাঁট, কুঁড়ি ও কাঁটার দাগ—বিশ্লেষণ করে এটি Chimonobambusa গণের একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা আধুনিক কাঁটাযুক্ত বাঁশ Bambusa bambos এবং Chimonobambusa callosa-এর সাথে তুলনা করে এর প্রাচীন প্রতিরক্ষা কৌশল ও পরিবেশগত ভূমিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।
গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, বৈশ্বিক শীতল ও শুষ্ক আইস-এজের সময় পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে বাঁশের বিলুপ্তি ঘটে, কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের উষ্ণ এবং আর্দ্র জলবায়ু তখন বাঁশের টিকে থাকার জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এই আবিষ্কারটি কেবল বাঁশের বিবর্তনের প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি অঞ্চলের প্রাচীন জলবায়ু ইতিহাস এবং জীববৈচিত্র্যের স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কেও নতুন ধারণা প্রদান করে।
জার্নাল Review of Palaeobotany and Palynology-তে প্রকাশিত এই গবেষণা বিশেষ করে বিরল সংরক্ষিত কাঁটার দাগ এবং কুঁড়ির জন্য গুরুত্ব রাখে, যা হাজার হাজার বছর আগে উদ্ভিদ জগতের গঠন ও প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।