কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে অবস্থিত নয়, তবে শহর, অরণ্য এবং পাহাড়ের অসাধারণ সংমিশ্রণের এক উজ্জ্বল গন্তব্য হল ঝাড়খণ্ডের টাটানগর, যেটিকে জামশেদপুর নামেও ডাকা হয়। ভোরের ট্রেনে চড়ে চললে সকালের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারবেন এই উজ্জ্বল শিল্পনগরীতে, যেখানে প্রাণবন্ত শহরের পাশাপাশি অপেক্ষা করছে জলাধার, বন এবং পাহাড়ের মনমুগ্ধকর দৃশ্য।
ডিমনা লেক, জুবিলি পার্ক, ভুবনেশ্বরী মন্দির, চান্ডিল ড্যাম এবং দলমা পাহাড়—এই সব দর্শনীয় স্থানগুলি দুটি বা তিন দিনের সফরে ঘুরে দেখা সম্ভব। দলমা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ডিমনা লেকের বিকালের স্পিডবোট রাইড এবং সূর্যাস্ত পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। শহরের মাঝখানে রুশি মোদি সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে দর্শকরা জানতে পারেন কিভাবে এই ইস্পাতনগরী গড়ে উঠেছে অরণ্যের মাঝে।

জুবিলি পার্কের আলোকিত ফোয়ারা কিংবা চান্ডিলা জলাধারের বিস্তীর্ণ দৃশ্য—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এসব সত্যিই আকর্ষণীয়। চাইলে দলমা অভয়ারণ্যে একটি রাত কাটিয়ে অরণ্যের নিস্তব্ধতা এবং বন্যপ্রাণীর কর্মকাণ্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
হাওড়া থেকে জনশতাব্দী, ইস্পাত এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের মাধ্যমে সহজেই তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় টাটানগর জংশনে পৌঁছানো সম্ভব। টাটানগর শহরের সাকচি এবং বিষ্টুপুর এলাকা বিভিন্ন ধরনের হোটেলে পরিপূর্ণ। পাহাড়, জল এবং শহরের বৈচিত্র্যে পূর্ণ এই স্থানটি সপ্তাহের শেষের ছুটিতে নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে বের হওয়া পর্যটকদের জন্য আদর্শ গন্তব্য।