আজ ১২ জানুয়ারি, পুরো দেশ জুড়ে উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬। এই বিশেষ দিবসটি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং যুব সমাজের উৎসাহ প্রদানকারী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনকে সম্মান জানাতে পালন করা হয়। তরুণদের নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস এবং দেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে এই দিনের প্রধান লক্ষ্য।
ভারত সরকার ১৯৮৫ সালে প্রতি বছর ১২ জানুয়ারিকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও শিক্ষাকে যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া এবং তাদেরকে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা।
১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতায় নরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম হয়, যিনি পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত হন। তিনি শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য হন এবং ভারতীয় দর্শন ও আধ্যাত্মিক চিন্তার ক্ষেত্রে বিশ্ব মনে প্রভাব ফেলে। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম সংসদে তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাবনার জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে আসে। তাঁর বক্তৃতা ও লেখায় যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাস, কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং মানবসেবা করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।
জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল, কলেজ এবং যুব সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে যুবকদের সমাজে ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যোগব্যায়াম শিবির এবং সমাজসেবামূলক কাজ। এসব উদ্যোগ তরুণদের চিন্তা প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে এবং তাঁদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা জাগ্রত করছে।
আজকের দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় ৩,০০০ তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণেরা উদ্ভাবন, সমাজ এবং জাতীয় অগ্রগতি নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করার সুযোগ পাবেন। এটি জাতীয় যুব দিবসের যুব ক্ষমতায়নের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় যুব দিবস কেবল একটি স্মারক দিবসই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। স্বামী বিবেকানন্দের অমর উক্তি— “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না”—এখনও লক্ষ লক্ষ তরুণের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, দেশের উন্নতির মূল চালিকা শক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্মের শক্তি, চিন্তাভাবনা ও সাহস।