প্রথমবারের মতো NCERT পাঠ্যবইয়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য শিক্ষা

জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশ অনুসারে এবার থেকে ভারতীয় শিল্পকলা ও সংস্কৃতিকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো ৩ থেকে ৮ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জায়গা পেয়েছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্য, নাটক ও দৃশ্যকলা।

জাতীয় শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (NCERT) প্রকাশ করেছে নতুন এই পাঠ্যবই।
৩–৫ শ্রেণির জন্য বইটির নাম রাখা হয়েছে “বাঁশুরি”, আর ৬–৮ শ্রেণির জন্য “কৃতি”


শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা পড়বে ‘কৃতি’। এতে শেখানো হচ্ছে স্বর, লয় ও শব্দের মতো ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মৌলিক উপাদান।

  • সংস্কৃত শ্লোক পাঠ শেখানো হচ্ছে স্বর ও লয়ের ভিত্তিতে।
  • আঞ্চলিক ভাষায় লোকগানও অন্তর্ভুক্ত।
  • সাত স্বরের ধরন ও ভিন্ন ভিন্ন লয়ে তার প্রয়োগ দেখানো হয়েছে।
  • হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটক সংগীতের কিছু রাগ শেখানো হচ্ছে।

নৃত্যের শিক্ষা

ছাত্রছাত্রীরা পরিচিত হবে ভারতের আটটি প্রধান শাস্ত্রীয় নৃত্যের সঙ্গে—
ভরতনাট্যম, কথক, কথাকলি, কুচিপুড়ি, মণিপুরি, মোহিনীয়াট্টম, ওডিসি ও শত্রীয়া।

সঙ্গীত নাটক আকাদেমির চেয়ারম্যান ও পাঠ্যবই উন্নয়ন কমিটির প্রধান সান্ধ্যা পুরেচা জানিয়েছেন,

“এতদিন স্কুলের কোনো পাঠ্যবইয়ে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য শেখানো হতো না। এখন থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলেই এর সঙ্গে পরিচিত হবে।”


প্রাচীন গ্রন্থের ভিত্তি

  • সংগীত বিষয়ে ব্যবহার করা হয়েছে নাট্যশাস্ত্র, ব্রিহদ্দেশী , সঙ্গীত দামোদর
  • নৃত্য বিষয়ে উদ্ধৃত হয়েছে অভিনয় দর্পণ, যেখানে হস্তমুদ্রা ও অভিব্যক্তির ব্যাখ্যা রয়েছে।

মৌলিক ধারণা ও ব্যবহারিক শিক্ষা

  • ছাত্রছাত্রীরা সহজ হস্তমুদ্রা, লাফ, ঘূর্ণন শিখবে, যা নাটক বা নৃত্যানুষ্ঠানে ব্যবহার করা যাবে।
  • সংগীতে মৌলিক রাগ ও তাল শেখানো হবে যাতে তারা শাস্ত্রীয় পরিবেশনা বুঝতে পারে।
  • কোনো লিখিত পরীক্ষা নেই; বরং নৃত্য, সংগীত, নাটক ও চিত্রকলায় গ্রুপ প্রজেক্ট ও পরিবেশনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে।

QR কোডের সাহায্যে স্বশিক্ষণ

গ্রামীণ অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না থাকলেও সমস্যা হবে না। প্রতিটি অধ্যায়ে দেওয়া হয়েছে QR কোড, যা স্ক্যান করলে পাওয়া যাবে অডিও-ভিডিও কনটেন্ট।


বহু ভাষায় অনুবাদ

বইগুলোকে ইতিমধ্যেই ১৯টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে—
হিন্দি, বাংলা, উর্দু, মৈথিলি, মারাঠি, নেপালি, পাঞ্জাবি, বোড়ো, গুজরাটি, ডোগরি, কোকণি, সাঁওতালি, তামিল, তেলুগু, অসমিয়া, কন্নড়, সংস্কৃত, মালয়ালম ও ওড়িয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *