লোকজ ঐতিহ্য থেকে জাতীয় স্বীকৃতি: নেপালের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার পথে

নেপালের অভূতপূর্ব অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি কমিটির ২০তম অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ সময়, শতাধিক জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সমাহার নিয়ে গঠিত নেপাল তার বৈচিত্র্যময় লোকজ ঐতিহ্যের জন্য বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
নেপালের নৃত্য, সংগীত, আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব এবং লোকগাথা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তবে, এত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এদের সুনির্দিষ্ট নথিভুক্তকরনের এবং তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি অভাব লক্ষ্য করা গেছে। এই ঘাটতি মেটাতে নেপাল সরকার সংস্কৃতি, পর্যটন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘জাতীয় অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইউনেস্কোর ২০০৩ সালের কনভেনশন অনুযায়ী প্রণীত হচ্ছে।
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ইয়োমারি’-র জাতীয় অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তালিকাভুক্ত হওয়া ইয়োমারি শুধু একটি খাদ্য নয়; এটি কাঠমান্ডু উপত্যকার নেউয়ার সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি চিহ্ন। ইউনেস্কোর সহায়তায় ললিতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ ইয়োমারি পুনহি উৎসবের সাথে সম্পর্কিত এই খাবারের প্রস্তুতি, গান ও রীতির নথিভুক্তির লক্ষ্যে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়।
ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাটান দরবার স্কোয়ারে ইয়োমারি উৎসবের মাধ্যমে একটি বিশেষ স্বীকৃতির তাৎপর্য উদযাপন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমাজে ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।
আগামীতে, ইউনেস্কোর সহযোগিতায় নেপালের সাতটি প্রদেশ জুড়ে অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বিস্তৃত তালিকা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণ, নারীদের এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ঘরের রান্নাঘর থেকে শুরু করে জাতীয় তালিকা পর্যন্ত এই যাত্রার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, নেপাল কীভাবে লোকজ ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *