পঞ্চকন্যার – সলিল স্মরণ ও কথানদী

গত ১২ই ডিসেম্বর ’২৫, বেহালার শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “পঞ্চকন্যা”-র আয়োজনে এক জমকালো সঙ্গীত ও নৃত্যনির্ভর অনুষ্ঠান। প্রয়াত সুরকার ও গীতিকার সলিল চৌধুরীর স্মরণে নিবেদিত এই অনুষ্ঠানে শিল্প, সংস্কৃতি ও আবেগের এক অনন্য সমন্বয় প্রত্যক্ষ করলেন দর্শক-শ্রোতারা।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে ‘পঞ্চকন্যা’র পক্ষ থেকে প্রয়াত সলিল চৌধুরীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও রূপকার শিল্পী ব্যানার্জী মহাশয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। প্রবীণ নাগরিকেরা সলিল চৌধুরীর বাংলা ও হিন্দি গানকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করেন। যদিও সমগ্র অনুষ্ঠানটিতে আয়োজক সংস্থার নাম বারবার উচ্চারিত হয়নি, তবু শিল্পীদের গাওয়া সুললিত কণ্ঠের গানগুলি শ্রোতাদের মনে বারবার সলিল চৌধুরীকেই ফিরিয়ে এনেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃতাঞ্জলি নৃত্য সংস্থার মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। অনুষ্ঠানের পরিশেষে পরিবেশিত হয় বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান “কথানদী”, যা দর্শক-শ্রোতাদের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে পরিচালনা করেন সঞ্চালিকা দীপান্বিতা সাহা ও মহুয়া মাশ্চারক। তাঁদের সুললিত ও দরাজ কণ্ঠে অনুষ্ঠান পরিচালনা, শব্দ প্রেক্ষাপনে হাসি পাঞ্চালের উপস্থিতি এবং যন্ত্রসংগীতে সায়ন্তন বিজলীর সহযোগিতা অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় পৌঁছে দেয়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তবলা বাদক, যোগ পরীক্ষক ও চিত্রশিল্পী এবং সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক, সংস্কৃতির সৈনিক শ্রী অমরেশ সেন মহাশয়।
সলিল চৌধুরীর বহুমাত্রিক সৃষ্টিকে স্মরণ করে ‘পঞ্চকন্যা’-র এই প্রয়াস শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে এক জীবন্ত শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে উঠেছিল। শিল্পীদের আন্তরিক পরিবেশনা ও সংগঠিত উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই সন্ধ্যা দর্শক-শ্রোতাদের মনে দীর্ঘদিনের জন্য স্মরণীয় হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *