কলকাতার বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি টাউনশিপের পাটুলি মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে রাজ্য খাদি মেলা ২০২৬। এই মেলা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ।
খাদি শুধুমাত্র একটি কাপড় নয়, বরং এটি একটি ঐতিহ্য, স্বনির্ভরতা এবং আত্মসম্মানের প্রতীক। মহাত্মা গান্ধীর দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা খাদি শিল্পের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে ১৯৫৯ সালে, যখন রাজ্য বিধানসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ‘পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ’ প্রতিষ্ঠা করতে। এই সংস্থাটি ১৯৬০ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২০ সালে এটি হীরক জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করে, যা বাংলার বস্ত্রঐতিহ্যের একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
শুরুর দিক থেকেই খাদি এবং গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে পরিষদটি। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন স্বীকৃতি ও পুরস্কারও অর্জন করেছে। বর্তমানে, কলকাতায় প্রধান কার্যালয়সহ রাজ্যের ১৮টি জেলায় তাদের জেলা দপ্তরগুলি প্রতিষ্ঠিত আছে।
একসময় খাদি বস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পরও এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কারিগরদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেনি। এর ফলে অনেক শিল্পী পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। খাদি শিল্পের আধুনিকীকরণ, শিল্পীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এবারের মেলায় মোট ১৫৩টি স্টল এবং একটি বিশেষ হাট রয়েছে, যেখানে কমপক্ষে ৩৭ জন শিল্পী সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। গত বছর এই মেলায় প্রায় ৯ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছিল, যা খাদি শিল্পের জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে সজ্জিত রাজ্যের খাদি মেলা ২০২৬ বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি ও স্বনির্ভরতার একটি অসাধারণ উৎসব হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।