ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ২০২৬ সালের প্রথম মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠক গতকাল, ৬ই ফেব্রুয়ারি শেষ করেছে।
২০২৫ সালে কয়েক দফায় সুদের হার কমানোর পর, এবার RBI কিছুটা (wait-and-watch) নীতি গ্রহণ করেছে। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ঘোষণা থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রধান পলিসি রেট (অপরিবর্তিত)
বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আগের কমানো হারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে RBI সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেপো রেট (Repo Rate): ৫.২৫%
এসডিএফ (SDF): ৫.০০%
এমএসএফ (MSF): ৫.৫০%
ব্যাঙ্ক রেট: ৫.৫০%
পলিসি অবস্থান (Stance): বর্তমানে “নিরপেক্ষ” (Neutral) রাখা হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস
গভর্নর উল্লেখ করেছেন যে ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে—যেখানে প্রবৃদ্ধি ভালো এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে।
জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি: ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.৪% করা হয়েছে (যা আগে ৭.৩% ছিল)। অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে এই বৃদ্ধি সম্ভব।
মুদ্রাস্ফীতি: ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য খুচরা মুদ্রাস্ফীতির (CPI) পূর্বাভাস ধরা হয়েছে ২.১%। তবে সোনা ও রূপার দাম বাড়ার কারণে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এটি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধান ঘোষণা ও গ্রাহকদের ওপর প্রভাব
ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে RBI বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে:
অননুমোদিত ইলেকট্রনিক লেনদেনের কারণে আর্থিক ক্ষতি হলে গ্রাহকদের ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
লোন এজেন্টদের দ্বারা ভুল তথ্য দিয়ে লোন বিক্রি (mis-selling) বন্ধ করতে এবং ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মানতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।
এখন থেকে ব্যাঙ্কগুলি নির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ মেনে REITs-এ ঋণ দিতে পারবে, যা আবাসন বাজারে নগদ প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে।