আজ, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভারতীয় শেয়ার বাজারে একটি বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। BSE সেনসেক্স ৯৬১.৪২ পয়েন্ট (১.১৭%) কমে ৮১,২৮৭.১৯ এ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ৩১৭.৯০ পয়েন্ট (১.২৫%) কমে ২৫,১৭৮.৬৫-এ থিতু হয়েছে।
এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৪.৭ ট্রিলিয়ন টাকা বাজার থেকে মুছে গেছে।
জেনেভাতে অনুষ্ঠিত আমেরিকা-ইরান পরমাণু আলোচনায় কোনো ইতিবাচক সমাধান না আসায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
অচলবস্থা: আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বেড়েছে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের খবর উদীয়মান বাজারে (Emerging Markets) ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় অর্থনীতিতে চাপ পড়ে।
ইরান-ইউএস অচলাবস্থার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ভারতীয় রুপির মান কমে ৯০.৯৮-এ দাঁড়িয়েছে।
‘এনভিডিয়া’ (Nvidia) ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাব
আমেরিকান চিপ মেকার এনভিডিয়া (Nvidia) ভালো আয় করলেও তাদের ভবিষ্যতের পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এর ফলে আমেরিকার ‘ন্যাসডাক’ (Nasdaq) সহ এশিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ক্রমাগত বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। গত সেশনেই তারা প্রায় ৩,৪৬৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। ঘরোয়া বিনিয়োগকারীরা (DII) বাজার ধরার চেষ্টা করলেও বিদেশি বিক্রির চাপে বড় শেয়ারগুলোর দাম কমে গেছে।
আইটি এবং মিডিয়া ছাড়া প্রায় সব সেক্টরই আজ লোকসানে ছিল।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত: ব্যাংকিং (HDFC Bank, ICICI Bank), অটোমোবাইল (Maruti, M&M) এবং রিয়েলটি সেক্টরে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে।
ইন্ডিয়া ভিআইএক্স (India VIX): বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক প্রায় ৫% বেড়ে ১৩.৭০-এ পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
বিনিয়োগকারীরা এখন ভারতের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের (Q3) জিডিপি (GDP) তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। সোমবার নিফটি ২৫,৩০০-এর সাপোর্ট লেভেল ফিরে পায় কি না, সেটাই দেখার।