দালাল স্ট্রিটে হাহাকার: ১২৩৬ পয়েন্ট ধস সেনসেক্সে, নিফটি নামল ২৫,৫০০-র নিচে; একদিনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকা

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক বিশাল ধস নামল। গত তিন দিনের টানা উত্থানের পর, সেনসেক্স এবং নিফটি কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। এক দিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

দিনের লেনদেনের সময় সেনসেক্স ১,৪৭০ পয়েন্টের মতো পতন ঘটে, অন্যদিকে নিফটি ৫০ দিনের লেনদেনের সর্বনিম্ন ২৫,৩৮৮.৭৫ পয়েন্টে পৌঁছে। যদিও সূচকগুলি কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত তারা গভীর পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

BSE Sensex ৮২,৪৯৮.১৪ (-১,২৩৬.৪১)( -১.৪৮%)

NSE Nifty 50 ২৫,৪৫৪.৩৫
(-৩৬৫.২০) (-১.৪১%)

কেন এই ধস? (প্রধান ৫টি কারণ)

১. আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার খবরে বিশ্ববাজার উত্তাল হয়ে ওঠে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে টাকা সরাতে শুরু করেন।

২.ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের জন্য এটি মুদ্রাস্ফীতির একটি বড় কারণ।

৩. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক সভার রিপোর্টে সুদের হার কমানোর ব্যাপারে মতভেদ দেখা গেছে, যা বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।

গত কয়েকদিন বাজার বেশ চাঙ্গা থাকায়, অনেক বড় বিনিয়োগকারী আজ তাদের পজিশন থেকে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন।

এশিয়ার বেশ কিছু দেশে ‘লুনার নিউ ইয়ার’ (Lunar New Year) ছুটি থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল বেশ কম, যা লিকুইডিটি কমিয়ে দিয়েছে।

কোন সেক্টরে কেমন প্রভাব?

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: রিয়েলটি (-১.৮১%), পাওয়ার (-১.৩০%) এবং অটোমোবাইল (-১.১২%) সেক্টর।
বিপরীত ধারা: আইটি খাতের কিছু শেয়ার যেমন Infosys এবং TCS সামান্য প্রতিরোধ দেখালেও তা বাজারকে বাঁচাতে পারেনি।

প্রধান পতন: ইন্ডিগো, এম অ্যান্ড এম (M&M), আল্ট্রাটেক সিমেন্ট এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় শেয়ারগুলো আজ উল্লেখযোগ্যভাবে পড়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি শর্ট-টার্ম কারেকশন। নিফটির জন্য এখন ২৫,৩০০ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল হিসেবে কাজ করবে। এটি ধরে রাখতে পারলে বাজার ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *