শকুন্তলা ভগৎ: ভারতের প্রথম মহিলা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও সেতু নির্মাণের পথিকৃৎ

১৯৫০-এর দশকে, যখন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাসরুমে পুরুষদের একাধিপত্য ছিল, তখন একজন নারী চুপিসারে ইতিহাস রচনা করেন। শকুন্তলা এ. ভগৎ, ভারতের প্রথম নারী সিভিল ইঞ্জিনিয়র, ১৯৫৩ সালে ভীরমাতা জিজাবাই টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট (VJTI) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরে, তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন, যা সে সময়ে সত্যিই একটি বিরল ঘটনা ছিল।
ভারত যখন আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি রচনা করছিল, ঠিক তখনই সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন শকুন্তলা। তাঁর স্বামী ড. অনন্ত ভগতের সঙ্গে মিলে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন Quadricon Pvt. Ltd., যা মডুলার ব্রিজ ডিজাইনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তাঁদের উদ্ভাবিত Quadricon সিস্টেম ছিল একটি হালকা, প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্টিল কাঠামো, যা যেকোনো অঞ্চলে দ্রুত এবং কম ব্যয়ে স্থাপন করা সম্ভব ছিল।
এই উদ্ভাবনটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে এবং ভারতসহ নানান দেশে পেটেন্ট প্রাপ্ত করেছে। ফুলকপি এবং সেতু নির্মাণে তার অবদান ভারতের স্থাপত্য ঐতিহ্যে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন করে। একটি আরেকটি উদ্ভাবন, ইউনিসিয়ার কানেক্টর, ইস্পাত সেতুগুলির শক্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
এই সময়ে, যখন মহিলা ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত, শকুন্তলা ভগত কাজের ক্ষেত্রেই নয়, বরং নির্মাণ সাইটেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। তিনি একদিকে হেলমেট পরে বিশাল স্টিলের কাঠামো নির্মাণের তত্ত্বাবধান করতেন, যা ছিল একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
আজকের দিনে, শকুন্তলা ভগতের কাজ ভারতের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে, তবে তাঁর নাম সাধারণত পাঠ্যপুস্তকগুলোতে খুব কম উল্লেখ করা হয়। তিনি শুধুমাত্র ইস্পাতের সেতু গড়েননি, বরং সম্ভনার সেতুও নির্মাণ করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের মহিলাদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নতুন পথে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *