শান্তিনিকেতনের সৃজনী শিল্পগ্রামের রংঘর মঞ্চে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী মৌসুমি উৎসব ‘মাঘোৎসব’। এই উৎসব শিল্প, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতার একেবারে অনন্য মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে একটি দিকে চলছে আর্ট ক্যাম্প, অন্যদিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ড. শান্তনু সেনগুপ্ত, যিনি সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের সম্পাদক। তাঁর উপস্থিতির সাথে সঙ্গে, এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তি, যাঁদের উপস্থিতি মাঘোৎসবকে আরও গৌরবময় করে তুলেছে।
বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন বিশ্বভারতীর কলাভবনের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহিদ এইচ হামদানি এবং প্রফেসর সৌমিক নন্দী মজুমদার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কলাভবনের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা ড. মেঘালি গোস্বামী এবং গ্রাফিক আর্ট বিভাগের প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক অধ্যাপক অজিত শীল।

নৃত্য এবং সংস্কৃতির জগতের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন পরিচিত নৃত্যগুরু কোহিনুর সেন বরাট, অধ্যাপক ড. সুমিত বসু—যিনি একাধারে বিশিষ্ট মণিপুরী নৃত্যশিল্পী এবং সঙ্গীত ভবনের রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য ও নাটক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. পার্থ গুপ্ত, যিনি বীরভূম ব্লসম থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আর্টিস্টিক ডিরেক্টর, এবং মি. অমিত অধিকারী।
মাঘোৎসবের প্রথম দিন থেকেই উৎসবের ব্যাপক উজ্জীবনের ভেতর দিয়ে চলতে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রবীণ এবং নবীন শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আর্ট ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো হয়ে উঠে অত্যন্ত প্রাণবন্ত। দর্শকরা ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠানে আগ্রহ দেখান, এবং প্রত্যেকটি পরিবেশনা তাদের গভীর মুগ্ধতা সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বিশিষ্ট অতিথিদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা উৎসবের মহিমা আরো বাড়িয়ে তোলে।
মাঘোৎসবের প্রথম দিনটি শিল্পী, আয়োজক এবং দর্শকদের কাছে সত্যিই একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসাবে পরিগণিত হয়েছে। আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আর্ট ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে এই শিল্প-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। শান্তিনিকেতনে মাঘোৎসবকে কেন্দ্র করে শিল্প ও সৃজনশীলতার যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্বিতীয় দিনেও সমানভাবে থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা।