আজ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ভারতীয় পণ্য বাজার (MCX)-এ রুপোর দাম সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর রুপোর কন্ট্রাক্ট আজ ইন্ট্রাডে-তে প্রতি কেজি ৩,৮২,৯১৩ টাকায় পৌঁছেছে। মাত্র এক মাস আগেও যা অকল্পনীয় ছিল, তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
রুপোর দাম বাড়ার ৪টি প্রধান কারণ:
১. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক:
আমেরিকা ও ন্যাটো (NATO) মিত্রদেশগুলোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করে আরোপিত আন্তর্জাতিক শুল্ক (Tariffs), যার ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ছেড়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে রুপো ও সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
২. ডলারের রেকর্ড পতন ও ফেডারেল রিজার্ভ বিতর্ক:
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মান গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। এছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সেন্ট্রাল ব্যাংক বা ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর স্বাধীনতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে সাধারণ মুদ্রার ওপর মানুষের আস্থা কমছে, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছে রুপো।
৩. চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহে টান:
বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদনকারী দেশ চীন ২০২৬-এর শুরু থেকেই রুপো রপ্তানির ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে রুপোর সরবরাহে এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
৪. এআই (AI) এবং গ্রিন টেকনোলজির চাহিদা:
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর এবং সোলার প্যানেল তৈরিতে রুপোর ব্যবহার অপরিহার্য। গত পাঁচ বছর ধরে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় রুপোর দাম এখন আকাশচুম্বী।
তারিখ দাম (প্রতি কেজি প্রায়)
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২,৫৬,০০০ টাকা
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩,০১,০০০ টাকা
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩,৮৩,০০০ টাকা