২৮ বছর দেশের সীমান্ত রক্ষায় সামরিক দায়িত্ব পালন করার পর অবসর নিয়েছেন তিনি। অনেকেই মনে করেছিলেন, এখন তাঁর জীবন শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাটবে। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সম্মানীয় সুবেদার মেজর লিজেশ টি পি বেছে নিলেন একেবারে ভিন্ন পথে—তিনি শুরু করলেন ভরতনাট্যমের কঠোর অনুশীলন।
কেরালার কান্নুরে একটি মন্দির উৎসবে সম্প্রতি দেখা গেল একটি চমকপ্রদ দৃশ্য। উপস্থিত দর্শকরা বিশ্বাস করেছিলেন, সেখানে ১৭ বছরের কন্যা বৈদেহীর নৃত্য পরিবেশনা দেখতে এসেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেল মুহূর্তেই। মঞ্চে মেয়েটির পাশেই দাঁড়িয়ে গেলেন তিনি, নেহাত একজন গর্বিত অভিভাবক হিসেবে নয়, বরং একজন নিবেদিত ছাত্র হিসেবে।
২০২৪ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর, লিজেশ তাঁর মেয়ের কাছে বাড়িতে ভরতনাট্যম শেখা শুরু করেন। প্রথমে এটি ছিল মজার উদ্যোগ হিসেবে শুরু, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে তা প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনে পরিণত হয়। সামরিক জীবনের কঠোর শৃঙ্খলা এবার যেন নৃত্যের তাল ও লয়ের সঙ্গে মিশে যায়। তাঁদের গুরু-শিষ্যের সময় কাটে ঘরেই, যেখানে গুরু হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাঁরই কিশোরী মেয়ে।
থ্রিক্কাপালাম দক্ষিণামূর্তি শিব মন্দিরের উৎসবে, তাঁদের চার মিনিটের যুগল পরিবেশনাটি পৌরাণিক ‘সমুদ্র মন্থন’ কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। এই পরিবেশনায় অভিব্যক্তি, ভঙ্গি এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধনার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। পরিবেশনাটি শেষ হলে, মন্দিরের প্রাঙ্গণে করতালির আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে।
একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে লিজেশ জানিয়েছেন, “২৮ বছরের সেনাবাহিনীতে কাটানো সময়ে আমি যুদ্ধ ও মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছি। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে মঞ্চভীতি কিছুই মনে হয় না। এখন কিছুতেই আমি ভীত নই।”
বর্তমানে এই বাবা-মেয়ে জুটি তাদের পরবর্তী পরিবেশনার প্রস্তুতিতে নিযুক্ত। তাদের এই গল্প যেন নতুন করে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—অবসর মানে থেমে যাওয়া নয়; শেখার জন্য কখনোই কোনো বয়স বাধা নয়, এবং শিল্পের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।