আজ, ৩০ মার্চ ২০২৬, ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক বিশাল ধস নেমেছে। নিফটি ৫০ (Nifty 50): ২২,৩৩১.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, যা ৪৮৮.২০ পয়েন্ট (২.১৪%) নিম্নমুখী।সেনসেক্স (Sensex): ৭১,৯৪৭.৫৫ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে, যা ১,৬৩৫.৬৭ পয়েন্ট (২.২২%) ক্র্যাশ করেছে।বাজারের এই ২ শতাংশের বেশি পতনের প্রধান কারণগুলি নিচে দেওয়া হলো:পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এই পতনের প্রধান কারণ। গত ২৮ মার্চ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির সম্পদ (যেমন শেয়ার) বিক্রি করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন।আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৬–১১৭ ডলারে পৌঁছেছে। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫-৯০% তেল আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।আজ ভারতীয় টাকার মান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯৫-এর ঘর অতিক্রম করেছে। টাকার এই দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে বাধ্য করছে।বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার বিক্রিবিদেশি বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড হারে ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করছেন। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই তারা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।আরবিআই (RBI)-এর নতুন ফরেক্স নিয়মঅনশোর কারেন্সি মার্কেটে ব্যাঙ্কগুলির পজিশন হোল্ড করার ক্ষমতার ওপর আরবিআই নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের পজিশন ক্লোজ করতে হয়েছে, যা ব্যাঙ্ক নিফটি (Bank Nifty)-তে প্রায় ৩% পতন ডেকে এনেছে।টেকনিক্যাল দুর্বলতা ও অস্থিরতাভয়ের সূচক বা India VIX প্রায় ৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৩১-এর স্তরে পৌঁছেছে, যা বাজারে চরম আতঙ্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিফটি ৫০ এখন তার গুরুত্বপূর্ণ ২২,৫০০ সাপোর্ট লেভেলের নিচে চলে এসেছে।সেক্টরভিত্তিক পারফরম্যান্সআজকের বাজারে প্রায় সব সেক্টরই লাল সংকেতে (পতন) বন্ধ হয়েছে।ব্যাংকিং (সবচেয়ে খারাপ): ব্যাংক নিফটি ২.৬%-এর বেশি পড়ে গেছে। আরবিআই-এর নতুন নিয়মের কারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যাংকই ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে।অটো (Auto): টাটা মোটরস এবং অশোক লেল্যান্ডের মতো শেয়ারগুলো ৩% থেকে ৭% পর্যন্ত পড়ে গেছে।আইটি (IT): তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কায় আইটি সেক্টরও পতনের মুখ দেখেছে।মেটাল (Metal): হিন্দালকো এবং ন্যালকোর মতো শেয়ারের হাত ধরে এই সেক্টরটি কিছুটা লড়াই করেছে।শীর্ষ ৫ লাভজনক শেয়ার (Top Gainers)এত বড় ধসের মাঝেও যে ৫টি শেয়ার ইতিবাচক ছিল:১. হিন্দালকো (+২.৪৬%): বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধিতে লাভবান হয়েছে।২. টেক মহিন্দ্রা (+১.৬৬%): আইটি স্পেসে রক্ষণাত্মক কেনাকাটার কারণে দাম বেড়েছে।৩. কোল ইন্ডিয়া (+১.১৩%): তেলেঙ্গানা পাওয়ার জেন কর্পোরেশন থেকে নতুন অর্ডার পাওয়ায় বৃদ্ধি।৪. ওএনজিসি (ONGC) (+১.০৫%): তেলের দাম বাড়লে এক্সপ্লোরেশন কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।৫. পাওয়ার গ্রিড (+০.১০%): ইউটিলিটি ডিমান্ডের কারণে সামান্য ইতিবাচক ছিল।শীর্ষ ৫ লোকসানকারী শেয়ার (Top Losers)১. বাজাজ ফাইন্যান্স (-৪.৯৫%): ঋণের খরচ বাড়ার আশঙ্কায় ব্যাপক পতন।২. এসবিআই (SBI) (-৩.৯৩%): সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।৩. শ্রীরাম ফাইন্যান্স (-৩.৫১%): এনবিএফসি (NBFC) সেক্টরের দুর্বলতার প্রভাব।৪. ইন্ডিগো (-৩.৮১%): তেলের দাম বাড়ায় বিমানের জ্বালানির (ATF) খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা।৫. কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক (-৩.৪৮%): সামগ্রিক ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্বলতার কারণে পতন।নিফটির চার্টে বর্তমানে বিয়ারিশ (Bearish) ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।সাপোর্ট লেভেল: পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হলো ২২,২৫০। এটি ভাঙলে নিফটি ২২,০০০ পর্যন্ত নামতে পারে।রেজিস্ট্যান্স লেভেল: উপরে ওঠার ক্ষেত্রে ২২,৪৫০ – ২২,৮০০ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।