আজকের বৃহস্পতিবারটি ভারতীয় সূচকের জন্য ছিল “রক্তাক্ত”। প্রধান দুটি সূচকই ৩%-এর বেশি নিচে নেমে বন্ধ হয়েছে।
নিফটি ৫০ (Nifty 50): ২৩,০০২.১৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে (৭৭৫.৬৫ পয়েন্ট পতন)।
সেনসেক্স (Sensex): ৭৪,২০৭.২৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে (২,৪৯৬.৮৯ পয়েন্ট পতন)।
শতাংশের পরিবর্তন: উভয় সূচকই -৩.২৬% নিচে।
প্রধান কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার তীব্র বৃদ্ধি।
পরিকাঠামোয় আক্রমণ: ইরানের সাউথ পার্স (South Pars) গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের এলএনজি (LNG) প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের (HDFC Bank) মতো বড় শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি।
মার্কিন ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় (৩.৫%–৩.৭৫%) এবং ২০২৬ সালে প্রত্যাশার চেয়ে কম সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১১৪–১১৮ ডলার হয়েছে। কাতার ও ইউএই-র জ্বালানি কেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের জন্য মুদ্রাস্ফীতির চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) নিট ২,৭১৪.৪০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা (DII) ৩,২৫৩.০৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারকে কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করেছে।
কারেন্সি (টাকা বনাম ডলার): তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ডলার ইনডেক্সের কারণে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম কমে ৯২.৬৩ হয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক পারফরম্যান্স
আজ বাজারে লুকানোর মতো কোনো জায়গা ছিল না, সবকটি সেক্টরাল ইনডেক্সই লালে বন্ধ হয়েছে।
সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স: ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিফটি রিয়েলটি (Nifty Realty) প্রায় ৩.৫% পড়ে শীর্ষ লোকসানে ছিল। অটো এবং কনজিউমার ডিউরেবলস সেক্টরেও ব্যাপক বিক্রি দেখা গেছে।
নেতিবাচক হলেও, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে এনার্জি এবং পিএসইউ (PSU) স্টকগুলি (বিশেষ করে তেল উত্তোলক সংস্থা) তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
(Top Gainers)
বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল:
১. জয়প্রকাশ পাওয়ার (+১১.৭%): জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে বেড়েছে।
২. আদানি টোটাল গ্যাস (+৮%): জ্বালানি সরবরাহের দুশ্চিন্তার মাঝেও শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।
৩. ওএনজিসি (ONGC) (+১.৫%): অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় সরাসরি লাভবান হয়েছে।
৪. অয়েল ইন্ডিয়া (+১.৫%): তেলের দাম বাড়লে এদের মার্জিন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫. এসিএমই সোলার (+৫.৪%): রিনিউয়েবল এনার্জি স্পেসে ভালো কেনাকাটা দেখা গেছে।
(Top Losers)
১. এইচডিএফসি ব্যাংক (-৫.৩%): চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগ এবং ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্বলতার কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে।
২. এইচপিসিএল (HPCL) (-৭%): তেলের দাম বাড়ায় তেল বিপণন সংস্থাগুলির মুনাফা কমার আশঙ্কায় পতন।
৩. লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (-৪.৭%): কাঁচামালের দাম বাড়ার আশঙ্কায় এই ক্যাপিটাল গুডস জায়ান্টে বিক্রি বেড়েছে।
৪. বাজাজ ফাইন্যান্স (-৫.৩%): আর্থিক খাতের দুর্বলতার প্রভাবে নিচে নেমেছে।
৫. বিপিসিএল (BPCL) (-৬.৫%): রিফাইনারি মার্জিন কমার আশঙ্কায় শেয়ারে পতন।
খবরে থাকা শেয়ার (Stocks in News)
এইচডিএফসি ব্যাংক: শেয়ারটি ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। চেয়ারম্যানের বিদায় ছাড়াও এর মার্জিন গ্রোথ নিয়ে বিশ্লেষকরা চিন্তিত।
নজারা টেকনোলজিস: ব্লুটাইল এবং বেস্টপ্লে-তে ৫০% অংশীদারিত্ব কেনার ঘোষণা করলেও বাজারের সাধারণ মন্দার কারণে শেয়ারটি নিচে নেমেছে।
মানাপ্পুরাম ফাইন্যান্স: বেইন ক্যাপিটালের বিনিয়োগের জন্য আরবিআই-এর ছাড়পত্র পেয়েছে, যা কোম্পানির জন্য বড় খবর।
অ্যালকেম ল্যাবস: উজ্জয়িনীতে নতুন কারখানার জন্য ৫৩৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে।
টেকনিক্যাল আউটলুক (Technical Outlook)
নিফটি চার্টে একটি “লং বিয়ারিশ ক্যান্ডেল” তৈরি করেছে, যা গত তিন দিনের সমস্ত লাভ মুছে দিয়েছে।
সাপোর্ট: তাৎক্ষণিক সাপোর্ট রয়েছে ২২,৯০০ স্তরে। এটি ভাঙলে পরবর্তী স্তর হতে পারে ২২,৭০০–২২,৪০০।
রেজিস্ট্যান্স: উপরের দিকে এখন ২৩,২০০ স্তরটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে। ২৩,৫০০ স্তরটি ট্রেন্ড রিভার্সাল বা বাজার ফেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।