​শেয়ার বাজারে বিরাট ধস! Sensex-এ ১০০০ পয়েন্টের পতন! নিফটি ২৫,৫০০-এর নিচে,বিনিয়োগকারীদের ২.৮৫ লাখ কোটি হাওয়া!

আজকের (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) শেয়ার বাজারের পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। দালাল স্ট্রিটে ধসের কারণে বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানের মুখ দেখেছেন।

বিনিয়োগকারীদের বিরাট লোকসান
আজকের এক দিনের পতনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩.১৫ লাখ কোটি টাকা (কিছু হিসেবে এটি ৭ লাখ কোটি পর্যন্ত দেখাচ্ছে) বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ মুছে গেছে। বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধন ৪৬৯ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ৪৬৬ লাখ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

Sensex: ১,০৬৮.৭৪ পয়েন্ট (১.২৮%) পড়ে ৮২,২২৫.৯২ স্তরে বন্ধ হয়েছে।
Nifty 50: ২৮৮.৩৫ পয়েন্ট (১.১২%) কমে ২৫,৪২৪.৬৫ স্তরে থিতু হয়েছে।

Nifty IT Index: আজকের সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টর, যা প্রায় ৫.৩% পড়ে ২৯,৮৭৫-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরে নেমে গেছে।

পতনের মূল কারণগুলো কী কী?

বাজারের এই “রক্তক্ষরণ”-এর পিছনে মূলত ৫টি কারণ কাজ করেছে:

AI (Artificial Intelligence) আতঙ্ক: মার্কিন এআই সংস্থা Anthropic তাদের নতুন টুল ‘Claude Code’ লঞ্চ করেছে, যা পুরনো সফটওয়্যার সিস্টেম (COBOL) আধুনিকীকরণে সক্ষম। এর ফলে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা কমার আশঙ্কায় আইটি শেয়ারে (TCS, Infosys, TechM) ধস নেমেছে।

IBM-এর ধস: মার্কিন বাজারে IBM-এর শেয়ার এক রাতে ১৩% পড়ে যাওয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে পড়েছে।

ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য শুল্ক (Tariff) এবং কঠোর নীতিমালার পূর্বাভাস বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে।

ইউএস ডলারের শক্তি: ডলার ইনডেক্স ৯৮-এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় উদীয়মান বাজারগুলো (যেমন ভারত) থেকে বিদেশি বিনিয়োগ (FII) বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টেকনিক্যাল অ্যানালিস্টদের মতে, নিফটি যদি ২৫,২০০-এর সাপোর্ট ধরে রাখতে না পারে, তবে বাজার আরও পড়তে পারে। আইটি সেক্টর বর্তমানে ২০০৮ সালের পর তার সবথেকে খারাপ মাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *