অর্পিতা ডান্স স্কুলের বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান – ২০২৬

গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হলো অর্পিতা ডান্স স্কুলের বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান যার প্রধান ব‍্যক্তি ,শিক্ষীকা এক কথায় হর্তাকর্তা হলেন অর্পিত চক্রবর্তী। নৃত্য, ইতিহাস, দেশপ্রেম, সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে সাজানো এই অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়া ঘোষ, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় এবং ভারতীয় বায়ুসেনার কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় “আমার স্বপ্ন, আমার দেশ” নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে। সম্পূর্ণ পরিবেশনাটি ছিল আমাদের প্রিয় ভারতবর্ষকে কেন্দ্র করে-জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল যার প্রতিবাদে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘নাইটহুড’ ত্যাগ করেছিলেন। ইতিহাসের সেই গৌরবময় অধ্যায়কে নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সেই সন্ধায়।

এরপর পরপর মঞ্চস্থ হয় দুটি নৃত্যনাট্য—“দেবী চৌধুরাণী” এবং “রানি রাসমণি”। বিষয়বস্তু, সময়কাল একেবারে ভিন্নমানের হলেও অর্পিতা ডান্স স্কুলের প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর অসাধারণ পরিবেশনা এই দুই ভিন্ন নাটককে সমানভাবে জীবন্ত করে তুলেছিল। তাঁদের অনবদ্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।

এরপর অনুষ্ঠানে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক স্বাদের পরিবেশনা—“ছোটদের গৌরী”—খুদে শিল্পীরা প্রাণবন্ত নৃত্যের মাধ্যমে মা দুর্গাকে বরণ করে নিয়েছে।

তবে অর্পিতা ডান্স স্কুলের এই বার্ষিক অনুষ্ঠানকে সত্যিই বিশেষ করে তোলে এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। এখানে অতি অল্পবয়সি শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ মহিলারাও একই মঞ্চে, একই ছন্দে, একই ভালোবাসায় নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রজন্মের এই অপূর্ব মেলবন্ধনই অর্পিতা ডান্স স্কুলকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।নাচের পাশাপাশি দীর্ঘ বছর ধরে যুক্ত থাকা সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের অধিনে পরিক্ষায় সফল পরিক্ষার্তীদের পুরষ্কার দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।
এই প্রত‍্যেক শিল্পীর নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিকতা ২ অক্টোবরের সন্ধ্যাটিকে স্মরণীয় করে তুলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *