৪৫ ডিগ্রির দাবদাহে শরীরের নীরব ক্ষতি, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

রাজ্যের তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই অসহনীয় গরমে শুধু হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে না, বরং ‘হিট স্ট্রেস’-এর সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে অনেকদিন ধরে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে হৃদয়, কিডনি এবং মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে বেশি ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত ​​সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এর ফলে শরীরের মধ্যে জল ও প্রয়োজনীয় লবণের অভাব সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ মেয়াদে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, এবং কিডনিতে পাথর বা ক্রনিক কিডনি রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে। পাশাপাশি, হৃদপিণ্ডের উপরও বেশি চাপ পড়লে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের মতে, রাতে তাপমাত্রা বেশি থাকায় ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের অভাব এবং মানসিক অবসাদসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে। শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক। শিশুরা দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হতে পারে, আর প্রবীণদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা বিভ্রান্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শুধুমাত্র জল নয়, বরং নিয়মিত ওআরএস, ডাবের জল, ঘোল বা নুন-চিনির জল পান করতে হবে। দুপুরের তীব্র রোদ থেকে বিরত থাকতে হবে, হালকা পোশাক পরিধান করা উচিত এবং ঘরের মধ্যে ভালো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *