ভারত সরকার পেট্রোল এবং ডিজেলের ওপর কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক (Central Excise Duty) উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা করেছে, যা আজ ২৭ মার্চ, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় (ব্যারেল প্রতি $১১৯ ছাড়িয়েছে) এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২৬ মার্চ গভীর রাতে অর্থ মন্ত্রক নিম্নলিখিত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে:
পেট্রোল: আবগারি শুল্ক ১০ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে এটি প্রতি লিটারে ১৩ টাকা থেকে কমে ৩ টাকা হয়েছে।
ডিজেল: আবগারি শুল্ক ১০ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ডিজেলে আবগারি শুল্ক ১০ টাকা থেকে কমে শূন্য (Zero) হয়েছে।
রপ্তানি শুল্ক (Export Duty): দেশের বাজারে জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজেলে প্রতি লিটারে ২১.৫ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির ওপর ২৯.৫ টাকা রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে।
খুচরো বাজারে কি দাম কমবে?
শুল্ক কমানো হলেও সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল পাম্পে দাম এখনই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এর কারণগুলি হলো:
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (IOCL, BPCL, HPCL) বর্তমানে বিপুল লোকসান (পেট্রোলে আনুমানিক ২৪ টাকা/লিটার এবং ডিজেলে ৩০ টাকা/লিটার) বহন করছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও তারা খুচরো দাম স্থির রেখেছিল।
এই শুল্ক কমানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংস্থাগুলিকে এই লোকসান সামলাতে সাহায্য করা এবং পাম্পে নতুন করে দাম বাড়া আটকানো, বর্তমান দাম কমানো নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিপরীতে, বেসরকারি সংস্থা Nayara Energy সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে পেট্রোলে প্রায় ৫ টাকা এবং ডিজেলে ৩ টাকা দাম বাড়িয়েছে।