আইটি খাতের অন্যতম প্রধান সংস্থা উইপ্রো লিমিটেড (Wipro Ltd) ২০২৬ সালের মার্চে সমাপ্ত হওয়া চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফলের পাশাপাশি ১৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল শেয়ার বাইব্যাক প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছে। এটি সংস্থার ইতিহাসে এযাবৎকালের বৃহত্তম বাইব্যাক।
কোম্পানির বোর্ড মোট পেইড-আপ ইক্যুইটি মূলধনের প্রায় ৫.৭% বা ৬০ কোটি ইকুইটি শেয়ার পুনঃক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
বাইব্যাক মূল্য: প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বাজার দর (২১০.২০ টাকা) থেকে প্রায় ১৯% বেশি (প্রিমিয়াম)।
মোট আকার: ১৫,০০০ কোটি টাকা (১৫০ বিলিয়ন টাকা) পর্যন্ত।
এই বাইব্যাকটি আনুপাতিক ভিত্তিতে টেন্ডার অফার (Tender Offer) রুটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
কোম্পানির প্রবর্তক (Promoters) এবং প্রবর্তক গোষ্ঠীর সদস্যরা এই অফারে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রেকর্ড ডেট (Record Date): এখনো ঘোষণা করা হয়নি; এই তারিখটি নির্ধারণ করবে কোন শেয়ারহোল্ডাররা এই বাইব্যাকে অংশ নিতে পারবেন।
আর্থিক প্রেক্ষাপট এবং বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি
উইপ্রো যখন এই বাইব্যাক ঘোষণা করেছে, তখন আইটি শিল্পে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর। উইপ্রো ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৩,৫০২ কোটি টাকার একত্রিত নিট মুনাফা নথিভুক্ত করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৮৫% কম। তবে, এই ত্রৈমাসিকে সংস্থার আয় বার্ষিক ভিত্তিতে ৯.৭৭% বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,২৩৬.৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
আগামী জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিকের জন্য উইপ্রো কর্তৃপক্ষ তাদের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা (guidance) ২,৫৯৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ২,৬৫১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে রেখেছে, যা স্থির মুদ্রা (constant currency) হিসেবে (-)২% থেকে ০% বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাইব্যাক ঘোষণা শেয়ারের দামের জন্য একটি সাময়িক “ফ্লোর” বা স্থিতিশীলতা প্রদান করবে এবং ইক্যুইটি কমানোর মাধ্যমে প্রতি শেয়ার আয় (EPS) উন্নত করবে। তবে, আয়ের সতর্ক লক্ষ্যমাত্রা এটিই প্রমাণ করে যে আইটি সেক্টর এখনও একটি চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের মোকাবিলা করছে। বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন রেকর্ড ডেট ঘোষণার দিকে নজর রাখেন যাতে এই ১৯% মুনাফার সুযোগ নিতে পারেন।
দ্রষ্টব্য: বাইব্যাকে অংশগ্রহণের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের রেকর্ড ডেটের মধ্যে তাদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে উইপ্রোর শেয়ার থাকতে হবে। রেকর্ড ডেট শীঘ্রই পাবলিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।