গত ৩১শে মে দীঘার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মহাসন্ধ্যা—”অমৃত নৃত্য মহোৎসব”। ভারতের ধ্রুপদী এবং ভক্তি নৃত্য ঐতিহ্যের এই মহোৎসবের মূল ভাবনায় ও পরিচালনায় ছিলেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ড. মেঘদীপা দাস অধিকারী। এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল সার্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের অনুমোদিত বিশিষ্ট শিল্প শিক্ষাকেন্দ্র ‘স্বরা অ্যাকাডেমি’ (SwaRa Academy)। তাদের অসাধারণ ও ভক্তিপূর্ণ নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত সকল স্তরের দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে।
দীঘার শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের পবিত্র পরিবেশকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। যা ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে। ভারতের সমৃদ্ধ ধ্রুপদী নৃত্য এবং ভক্তি আন্দোলনের ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই ছিল এই মহোৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

বিশিষ্ট শিল্পী ড. মেঘদীপা দাস অধিকারীর সুদক্ষ পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফি সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
স্বরা অ্যাকাডেমির প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পীরা তাদের নিখুঁত মুদ্রা, চমৎকার অঙ্গভঙ্গি এবং গভীর ভাবাবেগের মাধ্যমে মঞ্চে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেন। দেব-দেবীর বন্দনা এবং ধ্রুপদী নৃত্যের নানা শৈলী তাঁদের পরিবেশনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক ও পুণ্যার্থী মন্ত্রমুগ্ধের মতো এই পারফরম্যান্স উপভোগ করেন। স্বরা অ্যাকাডেমির শিল্পীদের প্রতিটি পরিবেশনা শেষে সমবেত করতালি ও প্রশংসা ধ্বনি প্রমাণ করে দেয় যে, তাঁরা উপস্থিত সবার মন জয় করতে পুরোপুরি সফল হয়েছেন। ধ্রুপদী সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরা অ্যাকাডেমি ও সার্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের এই যৌথ প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।সব মিলিয়ে, ৩১শে মে-র এই ‘অমৃত নৃত্য মহোৎসব’ দীঘার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।