পশ্চিমবঙ্গ মানেই মাত্র সংস্কৃতি বা ইতিহাস নয়, বরং এখানে ফলের রাজা আমের অসাধারণ বৈচিত্র্যের একটি বৈচিত্র্যময় সংগ্রহও রয়েছে। প্রভাশঙ্কর, অনুপম, ভাদুরী কিংবা ভবানীর মতো নাম শুনলে অনেকে হয়তো মনে করবেন এগুলো মানুষের নাম, কিন্তু আসলে এগুলি বাংলার বিভিন্ন প্রজাতির আম। রাজ্যে ২০০টিরও বেশি ধরনের আম উৎপাদিত হয়, তবে অধিকাংশ মানুষের চেনা জানা থাকে শুধুমাত্র কিছু জনপ্রিয় জাতের মধ্যেই।
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমের চাষ হয়ে থাকে, যা মোট ফলচাষের ৪১ শতাংশেরও বেশি। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বিভিন্ন জাতের এবং নির্মিত আমের ওজন ৭০ গ্রাম থেকে ৭৭০ গ্রামের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। মুর্শিদাবাদ এবং মালদা এই আমের চাষের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ, যেখানে আমের ইতিহাস মুঘল যুগে ফিরে যায়। জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের দরবারেও এখানকার আমের বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
মে থেকে আগস্টের এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের আম পাকে। হিমসাগর, গোলাপখাস, কোহিতুর ও ফজলি থেকে চৌসা—এদের সবাইয়ের স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। কিন্তু মর্মবেদনার বিষয় হল, এই বিশাল বৈচিত্র্যের মধ্যে বেশির ভাগ ফল সাধারণ বাজারে সহজে পাওয়া যায় না।
এই কারণে “আম পর্যটন” এখন একটি নতুন এবং আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার আমবাগানে গিয়ে সরাসরি ফল সংগ্রহের মাধ্যমে আপনি শুধু বিভিন্ন স্বাদের আমের স্বাদ নিতে পারবেন না, পাশাপাশি সস্তায় কেনার সুযোগও পাবেন। বিশেষ করে কোহিতুরের মতো দামি ও ঐতিহ্যবাহী আম, যা এক সময় নবাবদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, আজও মানুষের নজর কাড়ে।
বাংলার অনেক পুরনো আমের প্রজাতি আজ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তাই, এই জাতগুলোর যেগুলি এখনও বিবর্তিত হয়েছে, সেগুলোর সংরক্ষণ এবং উপভোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখা—এটি পর্যটকদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা সরবরাহ করবে।
শেষে বলতে গেলে, বাংলার আম শুধুমাত্র একটি ফল নয়, বরং এটি একটি বিশেষ ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে অনুভব করতে আগ্রহী হলে, এবার গন্তব্য হতে পারে আমের বাগান।